আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার ‘ঠুনকো অজুহাতে’: জামায়াত
“সামান্য কথা কাটাকাটির ঘটনায় কোনো দায়িত্বশীল সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো মামলা দেওয়া এবং তড়িঘড়ি করে তাকে আটকের ঘটনা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না,” বলা হয়েছে দলটির এক বিবৃতিতে।
জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে ‘ঠুনকো অজুহাতে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানসহ বহু যাত্রী (শাহজালাল বিমানবন্দরে) যে ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একইসঙ্গে যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে মামলা হওয়ার ১৫ ঘণ্টা বাদে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব নিয়ে আখতারুজ্জামানের উচ্চ-বাচ্যের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।
তাতে দেখা দেখা যায়, আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে উদ্দেশ করে বলছেন, “ঘাড় ধরে বের করে দেব, ঘাড় ধরে বের করে দেব। আপনারা কাজ করেন না, কিছু করেন না, তদবির করে পোস্ট নেন। মাইর খাইতে চান?”
এ ঘটনায় শুক্রবার ভোররাত সোয়া ৩টার দিকে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব। এরপর সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য, ঢাকা উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এক বিবৃতিতে বলেন, “সামান্য ও ঠুনকো অজুহাতে খ্যাতিমান বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও তড়িঘড়ি করে তাকে আটকের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অশুভ লক্ষণ।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ভিআইপি ও সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান, যিনি দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তিনি বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিরুদ্ধে কথা বলায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে।
‘‘যিনি যুদ্ধ না করলে দেশ স্বাধীন হত না, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সামান্য কথা কাটাকাটির ঘটনায় কোনো দায়িত্বশীল সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ না করে উল্টো মামলা দেওয়া এবং তড়িঘড়ি করে তাকে আটকের ঘটনা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। এমন ঠুনকো অজুহাতে মামলা করে আটকের ঘটনার সংস্কৃতি দেশের জন্য কোনো ভালো লক্ষণ নয়।”
বিবৃতিতে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও তাকে ছেড়ে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন সেলিম উদ্দিন।
আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর বিকালে বিক্ষোভ মিছিল করে মহানগর উত্তর জামায়াত। উত্তরার জসিম উদ্দিন সড়ক থেকে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে বিমানবন্দর সড়কে এসে সমাবেশ করেন নেতাকর্মীরা।
