৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সেপ্টেম্বরে কারা হেফাজতে মৃত্যু ২৪, ‘মবে’ নিহত ২৩: এমএসএফের প্রতিবেদন

রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও কার্যকর আইনগত সুরক্ষা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে সংগঠনটি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 05:54 PM

Updated : 30 Sep 2026, 05:54 PM

সেপ্টেম্বর মাসে ‘মব’ সহিংসতায় অন্তত ২৩ জন নিহত এবং কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন-এমএসএফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও নিজস্ব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংগঠনটি বলেছে, ‘মবের’ মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকার পাশাপাশি কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বুধবার প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে এমএসএফের এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে ‘মব’ সহিংসতার অন্তত ৬৫টি ঘটনায় ২৩ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন। অগাস্ট মাসের তুলনায় নিহতের সংখ্যা কমলেও এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক বলে মনে করছে তারা।

চুরি, ডাকাতি, জমি ও অর্থনৈতিক বিরোধ, বাকবিতণ্ডা এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এসব ‘মব’ সহিংসতার উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে কারা হেফাজতে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেখানে অগাস্টে এ সংখ্যা ছিল ৯। একই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে এমএসএফ।

মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, হেফাজতে মৃত্যুর এসব ঘটনা বন্দিদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, মানবিক আচরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

এ ছাড়া সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৮৪ জন আহত এবং অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। অশনাক্ত হামলায় আরও সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে এমএসএফ।

সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন স্থান থেকে ৭১টি অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের তথ্যও দিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং একজনের বয়স ও লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ লাশ নদী, সড়ক, রেললাইন, ফসলি জমি বা পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েকটি লাশ গলা কাটা, বস্তাবন্দি, হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা কিছুটা কমলেও আইনি হয়রানি বেড়েছে বলে জানিয়েছে এমএসএফ।

তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে ২৮ জন সাংবাদিক হামলা বা নির্যাতনের শিকার এবং নয়জন আইনি হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। একই সময়ে ডিজিটাল বা সাইবার আইনে মামলা তিনটি থেকে বেড়ে আটটি এবং গ্রেপ্তার তিনজন থেকে বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার বিষয়ে এমএসএফ বলেছে, সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি প্রতিমা ভাঙচুর এবং একটি জাতিগত নির্যাতনের ঘটনা তারা নথিভুক্ত করেছে।

কুষ্টিয়ার মহাশ্মশানে গরু জবাই করে পিকনিক এবং চিতা ও সমাধির ওপর জুতা পায়ে ছবি তোলার ঘটনাও তাদের প্রতিবেদনে এসেছে।

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও আহত হওয়া, আটক এবং ঠেলে পাঠানো বা পুশইনের চেষ্টার ঘটনার তথ্যও দিয়েছে সংগঠনটি। মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির গুলিতে একজন বাংলাদেশি আহত হওয়ার তথ্যও রয়েছে তাদের প্রতিবেদনে।

সেপ্টেম্বরের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় এমএসএফ বলেছে, সহিংসতার কিছু সূচকে উন্নতি হলেও রাজনৈতিক সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, ‘মবের’ মাধ্যমে বিচার, অজ্ঞাতনামা লাশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সীমান্তে প্রাণহানির মতো বিষয়ে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহিতা ও কার্যকর আইনগত সুরক্ষা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।