আদাবরে ভবনে হামলা: আসামি ধরতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ, গ্রেপ্তার ৪
আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ মার্চ মালিকরা ভবনটির দখল ফিরে পেলেও কয়েক মাসের মাথায় ফের হামলার ঘটনা ঘটে।
ঢাকার আদাবরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি ভবন দখলের চেষ্টায় চাপাতি ও রামদা নিয়ে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত আসামি ধরার অভিযানে নেমে হামলার মুখে পড়ার কথা বলছে পুলিশ।
এ সময় ‘আত্মরক্ষার্থে পুলিশের ছোড়া গুলিতে’ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন; আর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন চারজন।
আদাবরের নবোদয় হাউজিং কাঁচা বাজার সংলগ্ন মেলার মাঠের পিছনে খাল পাড়ে সোমবার রাত ২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান চলছিল। এরমধ্যে আসামিদের কয়েকজন খাল পাড়ে আছে খবর পেয়ে অভিযানে যায় পুলিশ।
“অভিযানের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে ৭ থেকে ৮ জন দুষ্কৃতিকারী দেখতে পাই। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তারা তাদের হাতের চাপাতি নিয়ে আমাদেরকে আক্রমণের করার চেষ্টা করে।
“তখন আত্মরক্ষার জন্য এক পুলিশ সদস্য দুই রাউন্ড গুলি করলে দুইজন আহত হয়।”
এ সময় আহত দুইজনসহ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন ওসি জাহাঙ্গীর।
গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজিব হাওলাদার (৩০), সাগর ওরফে ছোট বিগার (২৪), শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪) ।
এদের মধ্যে রাজিব ও সাগর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওসির ভাষ্য, “অন্য আসামিরা পালিয়ে গেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই এবং কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে।”
এদিকে ডিএমপি এক বার্তায় জানিয়েছে, আদাবরে চাপাতি দিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনায় মোট ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। যাদের মধ্যে ৬ জনকে সোমবার গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ।
গেল শনিবার সকালে আদাবরের শেখেরটেক এলাকার শ্যামলী হাউজিংয়ের প্রথম প্রকল্পের ৬ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির ফটক, জানালা ও নিরাপত্তার জন্য লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল।
ভবন মালিকের স্বজনদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর একইভাবে ভবনটি দখল করেছিলেন স্থানীয় খোরশেদ আলম নামের এক ব্যক্তি।
আদালত ও পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১২ মার্চ মালিকরা ভবনটির দখল ফিরে পান। কয়েক মাসের মাথায় আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভবন মালিকের স্বজনদের অভিযোগ, হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেও তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি সহায়তা পাননি তারা।
হামলার ওই ঘটনা ধরা পড়েছে অন্য একটি সিসিটিভি ক্যামেরায়। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে প্রথমে মুখে মাস্ক পরা একজনকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। পরে অস্ত্র হাতে একদল তরুণ এসে একে একে ওই বাড়ির তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এরপর জানালা ও প্রধান ফটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে দেখা যায় তাদের।
পরে এ ঘটনায় আদাবর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী। যার প্রেক্ষিতে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিল পুলিশ।
