Published : 07 Aug 2026, 06:38 PM
ঢাকার বনানীতে ভাগ্নির বিয়ের কথা বলে জাল নোট দিয়ে সোনার গয়না কেনার চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার মো. রুবেল আহম্মেদ ফকিরকে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল হাসান আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বনানীর মনিমালা জুয়েলার্স থেকে ৪৬ বছর বয়সি রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওই দোকানের ব্যবস্থাপক মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রুবেলসহ দুই জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় মামলা দায়ের করেন। অপর আসামি হলেন- আব্দুল্লাহ আল কাফি।
শুক্রবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই মো. জুম্মান খান আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জাল টাকার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। তাই জাল টাকা উৎপাদন ও সরবরাহের মূল উৎস চিহ্নিত করা, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং এই চক্রের অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত করতে আসামিকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।
আবেদনে বলা হয়, পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার- সিডিএমএসের তথ্য পর্যালোচনায় জানা যায়, আসামি রুবেল একজন পেশাদার জাল নোট চক্রের সদস্য। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মুগদা, শাহজাহানপুর, পল্টন, গুলশান, উত্তর পশ্চিম এবং নেত্রকোনা, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুরের বিভিন্ন থানায় জাল টাকা তৈরি, প্রতারণা, মানিলন্ডারিং ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন আইনে মোট ১৬টি মামলা রয়েছে।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে বনানী সুপার মার্কেটের লেভেল-২-এ অবস্থিত মনিমালা জুয়েলার্স-এ ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন রুবেল ফকির ও তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল কাফি। তারা তাদের ভাগ্নির বিয়ের জন্য স্বর্ণালঙ্কার কেনার কথা বলে কর্মচারীদের বিভিন্ন গয়না দেখাতে বলেন। একপর্যায়ে আসামিরা প্রায় ২০-২১ ভরি গয়না পছন্দ করে সেগুলো প্যাকেট করতে এবং বিল দিতে বলেন।
স্বর্ণের পরিমাণ ও দাম অনেক বেশি হওয়ায় মনিমালা জুয়েলার্সের ব্যবস্থাপনা শহিদুল ইসলাম ফোন করে বিষয়টি দোকানের মালিককে জানান। মালিকের আসতে দেরি হওয়ায় আসামিদের বিল পরিশোধের অনুরোধ করা হলে রুবেল তার সঙ্গে থাকা ট্রলি ব্যাগ থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করে দেন। নোটগুলো পরীক্ষা করতেই কর্মচারীদের সন্দেহ হয় এবং তারা তা জাল টাকা বলে নিশ্চিত হন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে দুই আসামি ট্রলি ব্যাগ ও টাকা ফেলে রেখে দোকান থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দোকানের কর্মীদের চিৎকারে আশেপাশের ব্যবসায়ী ও লোকজন এসে রুবেলকে আটক করে পিটুনি দেন। তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল কাফি পালিয়ে যান।