অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ছাগলকাণ্ডের মতিউর, পেছাল সাক্ষ্য
আদালত ১ নভেম্বর শুনানির জন্য পরবর্তী দিন রেখেছেন।
প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রথম দিন সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।
ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালতে এদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল।
বাদী দুদকের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হন। তবে মতিউরের আইনজীবী বিডিআর বিদ্রোহ মামলার প্রসিকিউটর মো. বোরহান উদ্দিন সাক্ষ্য গ্রহণ মূলতবি চেয়ে শুনানি করেন। কারণ হিসেবে অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে দুদকে প্রসিকিউটর আহম্মেদ আলী সালাম এর বিরোধিতা করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর প্রার্থণা জানান।
উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত ১ নভেম্বর শুনানির জন্য পরবর্তী দিন রেখেছেন।
দুদক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম এ তথ্য দেন।
এর আগে এদিন সকালে মতিউর রহমানকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
প্রিজনভ্যান থেকে নেমে মতিউর রহমান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ হয়েছে, শতভাগ ফেইক। এই ফেইক নিউজের রেজাল্ট কি আসে? প্রমাণ চাইলে শতভাগ প্রমাণ দিতে পারব। আমার আইনজীবীর কাছে সব প্রমাণ আছে।"
পরে তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির সময় এজলাসে তোলা হয়।
এর আগে গত ৩ অগাস্ট এ মামলায় মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন মামলা দায়ের করেন।মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়।
তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক। এতে উল্লেখ করা হয়, মো. মতিউর রহমানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
২০২৪ সালে কোরবানির জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কেনার ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে মতিউর রহমানকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা সমালোচনা হয়।
