Published : 27 Apr 2026, 05:47 PM
সৌদি আরবে দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির ‘হোয়াইট কলার’ চাকরিতে বাংলাদেশিদের নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া সৌজন্য সাক্ষাত করতে এলে তিনি এ আহ্বান জানান বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ৩০ লাখ বাংলাদেশিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ায় সৌদি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী আরিফ। একইসঙ্গে সৌদিতে দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ চাকরিতে কর্মী নেওয়ার জন্য তিনি রাষ্ট্রদূতের প্রকি আহ্বান জানান।
হোয়াইট কলার চাকরি বলতে দপ্তরভিত্তিক পেশাদার কাজকে বোঝায়, যেখানে শারীরিক শ্রমের চেয়ে মানসিক দক্ষতার বেশি প্রয়োজন হয়।
সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে গিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘প্রবাসী কার্ড’-এর মাধ্যমে আসন্ন দিনগুলোতে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।”
সৌদি দূতাবাসে রিক্রুটিং এজেন্সির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অভিবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ বৈঠকে ইকামাহ ফি কমানোর জন্য সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। একইসঙ্গে প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং সৌদি আরবে কোনো বাংলাদেশি কর্মী মৃত্যুবরণ করলে তার মরদেহ দ্রুত ও সহজে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূতের সহায়তা চান।
সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, “২০২৫ সালের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে বর্তমান আলোচনার অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”
যেসব বিষয় চুক্তিতে নেই, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নতুন চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “ইকামার ফি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বহন করার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কর্মীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা হওয়া উচিত নয়।”
শিক্ষা সহায়তার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, “বর্তমানে প্রতিবছর ২৫০ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পাঁচশতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, সৌদি দূতাবাসের কনসুল্যার আব্দুল্লাহ আল-হারবিসহ প্রবাসী কল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।