১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বায়ুদূষণ-ঠাণ্ডায় বাড়ছে শিশুর রোগবালাই

“এখন দিনের তাপমাত্রা সবসময় এক রকম না। সে অনুযায়ী কাপড় পরানো, ধুলায় সমস্যা হয় এমন বাচ্চাদের বাইরে কম নিয়ে যাওয়া এবং মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Dec 2024, 08:57 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:25 PM

দেশে গত কয়েকদিন ধরে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ুদূষণের খবর মিলছে; বাড়ছে শীতের তীব্রতাও, যার প্রভাবে শিশুদের সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে।

প্রতিদিনই এসব রোগ নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুরা আসছে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও।

ঋতুর হিসেবে এখনো শীতকাল আসেনি। তবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কমছে তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল, ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল গোপালগঞ্জে।

বায়ুদূষণে ঢাকার বাতাস বৃহস্পতিবার রাতেও খুবই অস্বাস্থ্যকর ছিল। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান একিউআইয়ের তথ্য অনুযায়ী এ সময় ঢাকার বাতাসের মান ছিল ২২০। 

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃহস্পতিবার ছাড়া দেশে সেভাবে কনকনে শীত পড়েনি। গত এক মাস দেশে মৃদু শীতের সঙ্গে খুব শুকনো মৌসুম গেছে। বৃষ্টি না থাকায় বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণ অনেক বেশি। এর প্রভাবে শিশুদের মধ্যে সর্দি ও কাশি বেড়েছে।”

এদিন শেরে বাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের বর্হিবির্ভাগ ও জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, সর্দিকাশি নিয়ে আসা শিশুদের ভিড়। 

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে ৯ মাস বয়সী শিশু অয়ন সরকারকে নিয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে এসেছেন তার বাবা-মা। 

অয়নের বাবা মিঠুন সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার কয়েকদিন ধরেই ঠাণ্ডা, গ্যাস দিলে কমে যায়। কিন্তু শীত বাড়লে ঠাণ্ডা আবার বাড়ছে। গলায় ঘড়ঘড় করে, কাশে। এজন্য নিয়া আসছি।”

মিরপুরের শ্যাওড়াপাড়া থেকে এক মাস ১৮ দিন বয়সী শিশু ইহানকে নিয়ে এসেছেন তার মা নয়নতারা। তিনি বলেন, “গত দুইদিন ধরে বাচ্চার খুব ঠান্ডা, কাশিও আছে। এ কারণে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছি। হঠাৎ করেই ঢাকায় শীত পড়ে গেছে, এ কারণে হয়তো বাচ্চা অসুস্থ্ হয়ে গেছে।” 

ঢাকার কল্যাণপুরের এক মাস বয়সী আহনাফের মা মেহনাজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তার ছেলের জ্বর। এখন তা আরও বেড়েছে। 

“দুই সপ্তাহ ধরে জ্বর, থেমে থেমে জ্বর আসে। সঙ্গে কাশি ছিল। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানোর পর কাশি থামছে, কিন্তু জ্বর সারেনি। এ কারণে আজ আবার নিয়ে আসছি।”

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৩৮ শিশু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে, এ সময় প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে এসেছে ২০৯ শিশু। ১ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এসেছে ২৪৩২ শিশু, অর্থাৎ দৈনিক গড়ে ২২১ জন।

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

শিশু হাসপাতালের তথ্যে দেখা গেছে, ১৫ নভেম্বর থেকে বুধবার পর্যন্ত যত শিশু এসেছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ২৯৪টি শিশু এসেছে সর্দি-কাশি নিয়ে। এছাড়া ১০৮৬টি শিশু নিউমোনিয়া, ৩৯০টি শিশু অ্যাজমার চিকিৎসা নিয়েছে হাসপাতালে।

শিশু হাসপাতাল জানিয়েছে, ১৫ নভেম্বর থেকে বুধবার পর্যন্ত ১২২৭টি শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে। তাদের মধ্যে ২০১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে।

এই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক মাহমুদুল হক চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সম্প্রতি এ ধরনের রোগ নিয়ে আসা শিশুর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তাদের মধ্যে সাধারণ সর্দি আসা শিশুর সংখ্যাই বেশি।

“বেশিরভাগ শিশুরই নাক দিয়ে সর্দি পড়ছে। অনেকের নাক বন্ধ থাকছে। শিশুদের মায়েরা বলছে তাদের কাশি, আসলে ওটা কাশি নয়। হাসপাতালে যেমন রোগী আসছে, চেম্বারেও আসছে।”

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা বলেন, “কাশি আবার দুই রকম হচ্ছে, শুকনো কাশি এবং ভেজা কাশি। সর্দি, কাশি, জ্বর কখনো বমি, পাতলা পায়খানা আক্রান্ত হয়ে শিশুরা আসছে। ডেঙ্গুর প্রভাবটা এখনও যায়নি, ডেঙ্গুতেও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে।”

শীতকালীন রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এখন দিনের তাপমাত্রা সবসময় এক রকম না। সে অনুযায়ী কাপড় পরানো, ধুলায় সমস্যা হয় এমন বাচ্চাদের বাইরে কম নিয়ে যাওয়া এবং মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে হবে।

“মাস্ক পরা এনশিওর করতে পারলে ধুলিজনিত সর্দি, কাশি দূর করা সম্ভব। যেসব বাচ্চাদের অল্পতেই সর্দি-কাশি জ্বর হয়, তাদের বেশি ভিড় হয় এমন জায়গায় নেওয়া যাবে না। খালি পায়ে হাঁটা যাবে না, গরম পানি দিয়ে গোসল করানো, এক বছরের বেশি বয়সের বাচ্চাদের আদা চা, লেবু চা, গরম পানিতে মধু, তুলসিপাতা মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করলে চিকিৎসক পর্যন্ত যাওয়া লাগে না।”