বিশ্লেষণ: তারেককে কেন দিল্লিতে চায় ভারত, ঢাকার দ্বিধা কোথায়?
ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি এবং তাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের দাবি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নয়া দিল্লিতে নিতে বারবার আগ্রহ দেখাচ্ছে ভারত। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কের যে অবনতি ঘটেছিল, বাংলাদেশের নতুন নেতার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে সেই সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর সুযোগ হিসেবেই একে দেখছে দিল্লি।
তবে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ, কয়েক সপ্তাহের কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং এমনকি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার দৃশ্যমান প্রস্তুতির পরও তারেক রহমান এখনও সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
শুক্রবার বিবিসির এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই আগ্রহ বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বেরই প্রতিফলন। সেইসঙ্গে দিল্লি এখন এটাও অনুধাবন করতে পারছে যে, হাসিনার আমলে ঢাকার সঙ্গে তারা যে অভাবনীয় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উপভোগ করেছিল, তা আর আগের মত নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
কিন্তু একই সময়ে ভারতে শেখ হাসিনার উপস্থিতি এবং তাকে প্রত্যর্পণে বাংলাদেশের দাবি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাহলে দিল্লি কেন তারেক রহমানকে আতিথেয়তা দিতে এত আগ্রহী? আর ঢাকা কেন পিছিয়ে যাচ্ছে? প্রস্তাবিত এই সফরের বিষয়টি এ পর্যায় কীভাবে এল?
তারেককে যে কারণে দিল্লিতে চাইছে ভারত?
বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্পর্ক মেরামতের মাধ্যমে শেখ হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার একটি সুযোগ হিসেবে তারেক রহমানের সফরকে দেখছে দিল্লি।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপোড়েন দেখা যায়।
এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে তারেক রহমানের বিএনপি।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই ভারত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। ঢাকায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঠানো ব্যক্তিগত সফরের আমন্ত্রণপত্র তারেক রহমানের কাছে হস্তান্তর করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা।
বিবিসি লিখেছে, ভারত এরপর থেকেই তারেককে দিল্লিতে নিতে ‘অস্বাভাবিক মাত্রায় প্রকাশ্য উৎসাহ’ দেখিয়ে আসছে।
ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বারবার দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে সরাসরি আলোচনার পক্ষে কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন, সফরে গেলে তারেককে 'সর্বোচ্চ সম্মান' দেওয়া হবে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব শ্যাম শরণ বিবিসিকে বলেন, দিল্লিতে সম্ভবত কিছুটা হতাশা কাজ করছে। কারণ শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর না করার বিষয়টি বাদ দিলে নতুন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ভারত সরকার যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখিয়েছে বলে তারা মনে করছে।
বাংলাদেশকে কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত?
বিবিসি লিখেছে, ভৌগোলিক কারণেই কোনো দেশের পক্ষে এই সম্পর্ক উপেক্ষা করা কঠিন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে এবং বার্ষিক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
এছাড়া, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বড় ভূমিকায় রয়েছে।
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগের সম্প্রসারণ হয় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীরতর হয়।
ভারতের ভাষ্য, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৎপরতা চালানো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছিল হাসিনার সরকার।
কিন্তু ওই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। সমালোচকরা অভিযোগ তোলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষার বদলে কেবল হাসিনার সরকারকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে দিল্লি।
তাই ভারতের জন্য তারেকের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করার অর্থ হল, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেন ঢাকার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও টিকে থাকে এবং তা কেবল নির্দিষ্ট কোনো সরকারের সঙ্গে যুক্ত না থাকে, তা নিশ্চিত করা।
তারেক কেন আমন্ত্রণ গ্রহণ করছেন না?
মূল সমস্যা এখন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে তাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে।
যদিও হাসিনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়েছেন।
ভারত বলছে, তারা ‘প্রতিষ্ঠিত নিয়মের আওতায়’ বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে।
তবে গত ৫ অগস্ট নয়া দিল্লিতে 'ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া' আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে।
ঢাকা এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলে, ভারতের মাটি থেকে হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্পর্ক মেরামতের প্রচেষ্টাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
ভারত এর জবাবে জানায়, এই অনুষ্ঠান আয়োজনে তাদের সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং হাসিনার বক্তব্যকে তারা সমর্থনও করে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন বিবিসিকে বলেন, দিল্লির অনুষ্ঠানে হাসিনার ওই বক্তব্যের আগে তারেক রহমান ভারত সফরের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছিলেন বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু ওই ঘটনা বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং সম্পর্ক পুনর্গঠনে দিল্লির আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ঢাকা কী শর্ত দিয়েছে?
গত ৫ অগাস্টের ঘটনার পর বাংলাদেশ তার অবস্থান বেশ স্পষ্ট করেছে। ১৬ অগাস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফর এগিয়ে নিতে একটি 'অনুকূল পরিবেশ' তৈরি করা প্রয়োজন।
ঢাকা ভারতকে হাসিনা ও অন্যান্য পলাতকদের প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর সন্দেহভাজন খুনিদের হস্তান্তর করার আহ্বান জানায়।
এর আগে ১০ অগাস্ট ঢাকায় তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকেও এই দাবিগুলো তোলা হয়েছিল। ওই বৈঠকের পর বাংলাদেশ সরকার বলেছিল, তারা আশা করে ভারত হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে এবং হাদী হত্যার সন্দেহভাজনদের ফেরত পাঠাবে।
এরপরই ত্রিবেদী সরাসরি নয়াদিল্লি যান এবং ঢাকায় তার আলোচনার বিষয়ে মোদীকে অবহিত করেন।
সফরের প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছিল?
অগাস্টের মাঝামাঝি সময়ের ঘটনাবলি বিচার করলে বলা যায়, তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতি বেশ ভালোভাবেই এগিয়েছিল।
১৪ অগাস্ট ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সূত্রগুলো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিল, ২২-২৩ অগাস্ট সম্ভাব্য সময় ধরে ভারতে তারেকের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি চলছে। জ্বালানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি বণ্টন এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মত বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
কোনো দেশের সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের কোনো তারিখ নিশ্চিত করেনি। কিন্তু ২১ অগাস্ট ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনের একটি ভুলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতির বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট হয়।
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এক বার্তায় জানানো হয়, 'বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী'র আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পূর্ণাঙ্গ মহড়ার কারণে তাদের নিয়মিত 'চেঞ্জ অব গার্ড' অনুষ্ঠান বাতিল করা হবে। কিন্তু পরে কোনো কারণ না দেখিয়েই ওই বার্তা সরিয়ে নেওয়া হয়।
পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং ঢাকা হাসিনা ও ‘পলাতক’ অন্যদের বিষয়ে ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।
আমন্ত্রণ কি দুটি?
হ্যাঁ। প্রথমটি হল ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরপরই মোদীর দেওয়া আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ। দ্বিতীয়টি হল ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস (BRICS) আউটরিচ সেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ।
ভারত স্পষ্ট করেছে যে, বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেক-এর সভাপতিত্ব করছে বলেই ব্রিকসের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং এটি দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ নয়।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দিল্লিতে বহুপক্ষীয় কোনো আয়োজনে যোগ দেওয়ার রাজনৈতিক অর্থ মোদীর সঙ্গে নির্দিষ্টভাবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার জন্য যাওয়ার চেয়ে আলাদা। তারেক এর কোনোটিতেই অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
ভারত এখন কেন এত বেশি আগ্রহী?
বিবিসি লিখেছে, দিল্লি এখন শেখ হাসিনাকে নিয়ে জটিলতা ছাপিয়ে চিন্তা করছে।
২০২৪ সালের পর থেকে বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক পর্যায়ের সফর বিনিময় এবং বৃহত্তর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে।
বাংলাদেশ চীনের সঙ্গেও সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে এবং সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত 'মক্কা ডিফেন্স প্যাক্ট'-এ অংশগ্রহণের কথা ভাবছে।
এসব পদক্ষেপের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ ভারতবিরোধী শিবিরে যোগ দিয়েছে। তবে দিল্লির দৃষ্টিকোণ থেকে এগুলো প্রমাণ করে যে, ঢাকার হাতে এখন আরও বেশি কূটনৈতিক ও কৌশলগত বিকল্প রয়েছে এবং ভারত এটা ধরে নিতে পারে না যে হাসিনার আমলে তারা যে মাত্রার প্রভাব ও প্রবেশাধিকার পেত, তা এখনও পাবে।
বিবিসি লিখেছে, প্রতিবেশীর সঙ্গে দূরত্ব স্থায়ী রূপ নেওয়ার আগেই তারেকের সঙ্গে শক্তিশালী সরাসরি সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ভারতের কাছে এই পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরেকটি কারণ হিসেবে কাজ করছে।
তারেককে কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হচ্ছে?
এখানে পরস্পরবিরোধী বেশ কিছু চাপ রয়েছে। ভারত এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগ অংশীদার।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন এবং গঙ্গার পানি চুক্তির ভবিষ্যৎসহ বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের জন্য তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের 'সুযোগটি ভারতের কাজে লাগানো উচিত'।
একইসঙ্গে, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে প্রকাশ্যে কথা বলতে থাকলে দিল্লিতে যাওয়াটা তারেকের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তার সরকার বারবার তার পররাষ্ট্রনীতিকে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' বা 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির আলোকে উপস্থাপন করেছে, যেখানে সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ কারণেই এই সফরের দৃশ্যমান দিকটি এর মূল বিষয়বস্তুর মতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দিল্লি কেন বারবার চেষ্টা করছে?
কারণ এই সম্পর্কটি দীর্ঘকাল অনিশ্চয়তায় ঝুলিয়ে রাখার মতো নয় এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবিসির বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দেয়, ভারত তারেককে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে দেখছে যার সঙ্গে এখন একটি টেকসই কাজের সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। এটা এমন একটি সম্পর্ক যা হাসিনা বা ২০২৪-পূর্ব রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ওপর নির্ভরশীল নয়।
বাণিজ্য ও যোগাযোগ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশাধিকার পর্যন্ত দিল্লির অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এখানে জড়িত। অন্যদিকে দেশে প্রতিশ্রুত কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রেখে সবচেয়ে বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে একটি কার্যকরী সম্পর্ক ঢাকারও প্রয়োজন।
কিন্তু শেখ হাসিনাকে নিয়ে অমীমাংসিত প্রশ্নের কারণে এই সফরকে সাধারণ কূটনীতি হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়।
ভারতের জন্য তারেককে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়াটা হবে ২০২৪-পরবর্তী ফাটল জোড়া লাগার একটি দৃশ্যমান সংকেত। আর বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন হল, সম্পর্ক মেরামতের এই প্রক্রিয়াটি এমন শর্তে হতে পারে কি না, যা ঢাকা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই সমর্থনযোগ্য বলে তুলে ধরতে পারবে।
