৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন না: জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

“আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই।”

সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেবেন না: জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 08:37 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

নিজেদেরকে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় না দিয়ে দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “আপনারা বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে কেউই সংখ্যালঘু হিসেবে নিজেদেরকে পরিচয় দেবেন না, এটা আমরা আশা করি। আপনারা সবাই পরিচয় দেবেন নাগরিকত্বের ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে দেবেন না। সবাই বলবেন এদেশের সমান অধিকারভুক্ত একজন নাগরিক হিসেবে।”

শুক্রবার বিকেলে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব-১৪৩৩’ উপলক্ষে ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা’ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার’ প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশি’। 

“আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ভোট ব্যাংক, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।

“জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।”

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে সকল ধর্মের ধর্মচর্চার, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রকে। বলা হয়েছে ধর্মের ভিত্তিতে কোন বৈষম্য করা যাবে না এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য সকল ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ে যারা কর্তা তাদের স্বাধীনতা, উপাসনালয় স্থাপনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা এই সম্প্রীতি, এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করব এবং আমরা সেই ঘোষণা দিয়েছি।

“বাংলাদেশের সকল নাগরিক বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-নৃগোষ্ঠী যারাই হোক, তারা ধর্মীয়ভাবে সাংস্কৃতিকভাবে নিজ নিজ ধর্মাচার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ধর্মীয় স্বাধীনতা বহাল থাকবে, বজায় থাকবে এবং পালন করবে।”

ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। 

“আজ থেকে আমাদের বলতে হবে-আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।”

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে সমাবেশ বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন-প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম। 

জন্মাষ্টমীর মিছিলটি পলাশী মোড় থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর পার্কে গিয়ে শেষ হয়।