Published : 26 Oct 2025, 07:31 PM
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আদালত যে ২১ জনকে রিমান্ডে দিয়েছেন, তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পাশাপাশি যুবদলের কর্মী থাকার কথাও বলেছেন আসামিপক্ষের এক আইনজীবী।
রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সাইফুজ্জামান তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—বাপ্পি হোসেন, সিপন আহম্মেদ সিফাত, আমিনুল ইসলাম নিরব, হামিদুর রহমান অমি, ইলিয়াস হাং, সুজন, আজাদ, রহমত হাং, জেডএফ তিতুমির, দেওয়ান হাসানুল কবির, মিজানুর শেখ, জাকির হোসেন, শাহিন, রেদোয়ান রহমান সিয়াম, জাকির হোসেন, নজরুল ইসলাম, ইউনুস কাজী, সজিব, জাহিদ খান, শহিদুল আলম এবং তানভীর হাসান আরিফ।
এদের বাইরে তিনজন বয়সে শিশু হওয়ায় তাদেরকে রিমান্ড শুনানির জন্য শিশু আদালতে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
রিমান্ডে যাওয়া শাহিন বরিশাল যুবদলের কর্মী বলে আদালতকে জানিয়েছেন তার আইনজীবী আওয়াল কবির।
গত ২১ অক্টোবর সকালে গুলশান-১ এর ফজলে রাব্বি পার্কের পাশে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগে তাদের আটক করে পুলিশ। কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এসআই আব্দুল গোফরান পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরের দিন তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের এসআই আরমান হোসেন।
আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে ২৬ অক্টোবর ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে হারুন অর রশীদ আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন।
আসামিদের পক্ষে ওবায়দুল ইসলাম, জাকির হোসেন, আওয়াল কবিরসসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ডের এ আদেশ দেয়।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় শাহিন বলেন,"আমি যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ বিরুদ্ধে মিছিল, মিটিং করেছি। আমাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিল।"
তিনি বলেন,"আমার মেয়ে বাড্ডার একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করছে। তাকে দেখতে বরিশাল থেকে ঢাকা আসছিলাম। গুলশান দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে গ্রেপ্তার করেছে।”
এদিন আদালতে আসামিদের স্বজনরা ভিড় করেন। অনেককে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। আদালতে আসেন শাহিনের স্ত্রী সালমা আক্তারও।
সালমা আক্তার বলেন,"দেড় মাস আগে মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় আসি। বাড্ডা এলাকায় থাকি। মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করেছি। আমার স্বামী বরিশাল থেকে একটি কোম্পানির বাস চালায়।"
তিনি বলেন,"গত ২০ অক্টোবর রাতে ফোন দিয়ে জানায় ঢাকায় আসতেছে। লঞ্চে এসে সকালে জানায় ঢাকায় আসছে। ঘণ্টা খানেক পর থেকে ফোন বন্ধ। সারা দিন ফোন দেয়, কিন্তু তাকে পায় না। রাত ১২ টার সময় পুলিশ ফোন দিয়ে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। আমার স্বামী নির্দোষ। তারা মুক্তি চাই।"