মেরিটাইম জোটে কেন বাংলাদেশ, সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বললেন খলিল
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে উভয়পক্ষ মতবিনিময় করেছে, বলছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ বিন আবদুল করিম আল-খুরাইজির বৈঠকের আলোচনায় রিয়াদের নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে (এমএমডিসি) বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়টি উঠে এসেছে।
নৌ-চলাচলের স্বাধীনতার বিষয়ে বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল বলেছেন, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে ঢাকার যে প্রতিশ্রুতি, সৌদি নেতৃত্বের এমএমডিসিতে যোগদানের মধ্য দিয়ে তার প্রতিফলন ঘটছে।
ঢাকায় অতিথি ভবন পদ্মায় মঙ্গলবার সকালে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠক হয়েছে। সেখানে আলোচনার বিভিন্ন দিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইরান সমর্থিত হুতিদের হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের নিরাপত্তায় সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করা হয়েছে। অন্য ১৩টি দেশের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশও যুক্ত হয়েছে এই জোটে।
বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ৪৩টি দেশের সামরিক প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে ওই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আরব নিউজ, আনাদুলু ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোটের লক্ষ্য হবে বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের রুট সুরক্ষিত রাখা এবং সদস্য দেশগুলোর সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষা করা।
আনাদুলু লিখেছে, জোট গঠনের পক্ষে যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে ১৪টি দেশ। এগুলো হলো—সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, কোমোরোস এবং সুদান।
ওই জোট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা আসার চার দিনের মাথায় সোমবার ঢাকা সফরে এসেছেন সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল-খুরাইজি। মঙ্গলবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও যোগ দেন।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়ে উভয়পক্ষ মতবিনিময় করেছে। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রসারে সৌদি আরবের দূরদর্শী নেতৃত্বকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
“সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থনের কথাও পুনরায় তুলে ধরেছেন তিনি।”
উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল-খুরাইজিকে স্বাগত জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বের ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সহযোগিতা একীভূত করে সম্পর্ককে ‘সমন্বিত অংশীদারত্বের’ পর্যায়ে উন্নীত করার প্রস্তাবও বৈঠকে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
“দুই দেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের জোরালো বন্ধনের কথা তুলে ধরেছেন সৌদি উপমন্ত্রী এবং বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিস্তৃত করার উপর জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশের বন্দর, অবকাঠামো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অব্যাহত মানবিক ও রাজনৈতিক সহায়তার জন্য সৌদি আরবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
