Published : 08 Jan 2026, 12:59 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস এ সপ্তাহের শেষ দিকে বাংলাদেশে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি।
বুধবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসে পাম্পালোনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি বড় ও উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিশনের প্রধান বাংলাদেশে এসে রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পাম্পালোনির সঙ্গে ইউনূসের বৈঠকে বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক, ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কম্প্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যান্ড কোঅপারেশন (পিসিএ) নিয়ে চলমান আলোচনা, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গৃহীত ‘অবিশ্বাস্য ও ব্যাপক’ সংস্কার কার্যক্রমের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান পাম্পালোনি।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বিষয়গুলোতে ‘অত্যন্ত গুরুত্ব’ দেয়।
ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন খুব গভীরভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রশংসা করেছে।”
ইইউ ও বাংলাদেশের মধ্যে পিসিএ চুক্তির অগ্রগতিকে স্বাগত জানান পাম্পালোনি। তিনি বলেন, এই চুক্তি দুই অংশীদারের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
গত ১৭ মাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি পিসিএকে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এটা বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—উভয়ই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সমর্থন জানিয়েছে, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইউনূস বলেন, “আমার মনে হয় না কোনো দল ‘না’ ভোটের পক্ষে যাবে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভোট হবে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ’।
“গত ১৬ বছর ধরে স্বৈরশাসনের অধীনে এ দেশের মানুষ মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার তারা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেবে।”
পাম্পালোনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে এবং ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের মধ্যে নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।