১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রত্যেকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সবার কল্যানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সরকার প্রধান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 12 Oct 2026, 04:40 PM

Updated : 12 Oct 2026, 04:40 PM

ধর্মের ভিত্তিতে নয় বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের পাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।

সচিবালয়ে সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান এসব কথা বলেন বলে তথ্য দিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।”

“একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

সাক্ষাতে আসন্ন দুর্গা পূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিরা। হিন্দুদের কল্যাণে বিএনপি সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসাও করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা নিজেরাই বলেছেন, এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।”

মত বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান, সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।

“জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।”

আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওই সময়ে দলের মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।

“আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও উপস্থিত ছিলেন।