এমটিএফই প্রতারকদের সম্পর্কে তথ্য চায় সিআইডি
অ্যাপ ও অনলাইনভিত্তিক যেকোনো ব্যবসায় বিনিয়োগের বিষয়ে সচেতনতার তাগিদ।
কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এমটিএফই অ্যাপের সঙ্গে জড়িত প্রতারকদের সম্পর্কে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শুক্রবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি বলেছে, সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স টিম প্রতারকদের নজরদারি করছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা সিআইডির ফেইসবুক পেইজে (https://www.facebook.com/cpccidbdpolice) অভিযোগ জানাতে পারবেন।
অভিযোগ জানানো যাবে ইমেইলও (cyber@police.gov.bd)। পাশাপাশি ফোন (+8801320010148 অথবা 999) করেও অভিযোগ দেওয়া যাবে।
এ বিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজাদ রহমান বলেন, “কোনও ভুক্তভোগী এখনও সিআইডির কাছে এসে অভিযোগ করেননি।”
সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এমটিএফইর কোনও অফিস না থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এর কার্যক্রম শুরু হয়। ঘরে বসে সহজে আয়ের পথ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক-ইউটিউবে তারা ব্যাপক প্রচারণা চালায়। বিভিন্ন ভিডিও ও বিজ্ঞাপন দেখে এ দেশের অনেকেই তাতে উদ্বুদ্ধ হয়।
এমএলএম পদ্ধতিতে এমটিএফই কাজ করে উল্লেখ করে সিআইডি বলছে, একজন আরেকজনকে দেখে এতে বিনিয়োগে আকৃষ্ট হয়। এক্ষেত্রে রেফারেল বা মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কাজ করে।
“বেশি লাভের আশায় লাখ লাখ মানুষ অ্যাপটিতে বিনিয়োগ করেছে। কিছু মানুষ অবশ্য লাভের অংশ পেয়েছে। তবে চূড়ান্ত বিচারে বিনিয়োগের সব অর্থই খোয়াতে হয় গ্রাহকদের।”
অ্যাপটির প্রতারকরা ঢাকা, বরিশাল, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, কুমিল্লা ও সাতক্ষীরা থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ হাতিয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটির ধারণা, সারাদেশে প্রতারণার শিকার মানুষের সংখ্যা চার থেকে পাঁচ লাখ।
পুলিশের বিশেষায়িত এ শাখা বলছে, শুধু এমটিএফই নয়, দেশে অ্যাপভিত্তিক আরও প্রতারক চক্র সক্রিয় আছে।
“বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এমএলএম ব্যবসা এবং ক্রিপ্টো কারেন্সিতে লেনদেন অবৈধ ও নিষিদ্ধ। অ্যাপ এবং অনলাইনভিত্তিক যেকোনো ব্যবসায় বিনিয়োগকারীদের এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতনতা দরকার।”
