০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসির কাছেই থাকছে এনআইডি সেবা

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করার পর প্রতিক্রিয়া জানাব, বলেছেন সিইসি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jan 2025, 11:37 AM

Updated : 26 Aug 2026, 11:36 AM

জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা নিজেদের কাছে রাখতে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “গতকাল (বুধবার) আমরা পাঠিয়েছিলাম, আজকে এটা পাস হয়েছে।”

এটা সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখতে বিদ্যমান জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩ বাতিল করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বুধবার প্রস্তাব পাঠানো হয়।

নির্বাচন কমিশনের এ প্রস্তাব অনুমোদনের পর সরকারকে এখন অধ্যাদেশ জারি করে আইনটি বাতিল ও আগের আইন বহাল করতে হবে।

রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) নির্বাচন ভবনে পিঠা উৎসবের আয়োজন করে, যেখানে অতিথি হয়ে আসেন সিইসি নাসির উদ্দিন, চার কমিশনার ও নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার। 

সিইসি বলেন, “যখন জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হয়, তখন আমি গণমাধ্যমের খবরে জানতে পেরেছিলাম। দেশের একজন সিনিয়র নাগরিক হিসেবে তখনই আমি মনে করেছিলাম, কোনো মহৎ উদ্দেশে এটা নেওয়া হচ্ছে না। 

“আমি সিইসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই-একজনের সঙ্গে আলাপের পর আমি বলেছিলাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখতে হবে। এজন্য যা যা করার আমি করব। সেজন্য ওই আইন বাতিল করতে চিঠি দিয়েছি।” 

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা সুপারিশ পর্যালোচনা করার পর প্রতিক্রিয়া জানাব।” 

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “সামনের দিনে নির্বাচন কমিশন যেন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য আইনি কাঠামো তৈরি এবং অতীতের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য দায়বদ্ধতার সুপারিশ করেছি।” 

তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে দুর্বৃত্ত ও মানবতাবিরোধী অপরাধীরা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সেজন্য সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 

বদিউল আলমের দাবি, “সংস্কার কমিশনের জরিপে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ মানুষ জাতীয় সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিয়েছে।”

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এনআইডি কার্যক্রম ইসির কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৩ সালে একটি আইন করে। 

‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন-২০২৩’ শীর্ষক সেই আইনের প্রজ্ঞাপন জারি করে সুরক্ষা সেবা বিভাগে না নেওয়া পর্যন্ত ইসির অধীনেই এই কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হয়। সেই অনুযায়ী এখনো এনআইডি সেবা নির্বাচন কমিশনের অধীনেই আছে।

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ এ কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। 

এনআইডি আইন-২০২৩ বাতিলের প্রস্তাব করে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে পাঠানো নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা তৈরি, হালনাগাদ করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং নির্বাচন পরিচালনার কাজের ভার নির্বাচন কমিশনের। এ কাজ করার ফলাফল হিসেবে ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিষয়টি আসে। 

নির্বাচন কমিশন বলেছে, জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হয়। ২০২১ সালের ১৭ মে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন নেওয়ার বিষয়ে তৎকালীন সরকার সিদ্ধান্ত নেয়। 

সেই বছরের ৭ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব চিঠি পাঠিয়ে এই কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনে রাখার পক্ষে মতামত জানায়।

তবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আর কোনো আলোচনা না করে ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ বাতিল করে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করা হয় বলে নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে।

গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর এ আইন বাতিল করে এনআইডি কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের কাছে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়কে অনুরোধ করেছিল নির্বাচন কমিশন।

ক্ষমতার পালাবদলের পর নির্বাচন কমিশন আবার বিষয়টি সরকারের দপ্তরে পাঠানো পর আইনটি বাতিলে সম্মতি দেওয়া হল।

পুরোনো খবর:

বর্তমান ইসিও এনআইডি সেবা নিজেদের কাছে রাখতে চায়