১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় সাবেক স্বামীকে পেটালেন দুই নারী

মামলার শুনানির পর দুই নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ ঘটনা ঘটে।

পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় সাবেক স্বামীকে পেটালেন দুই নারী
পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় এক ব্যক্তিকে মারধরের সময় তার সাবেক দুই স্ত্রীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন লোকজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Apr 2025, 11:01 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:30 PM

প্রথম সংসারে দুই সন্তান থাকা অবস্থায় গোপনে আবার বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু দুই বিয়েই ভেঙে গেছে। দুই নারী এখন মামলা লড়ছেন তাদের সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। আর মামলার হাজিরা দিতে এসে আদালত পাড়ায় দুইজন মিলে জুতাপেটা করলেন তাকে।

পুরান ঢাকার আদালত পাড়ায় রোববার বিকালে এ ঘটনার বিষয়ে সে দুই নারীর আইনজীবী বলেছেন, মামলার শুনানি শেষে তাদের লাথি মেরেছিলেন ওই ব্যক্তি, তার জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। 

মারধরের শিকার নুর মোহাম্মদের প্রথম স্ত্রী ছিলেন শাহনাজ আক্তার। আর হ্যাপি আক্তার ছিলেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী। 

এদিন মামলার শুনানি থাকায় তিনজনের দেখা হয়ে যায় আদালতে। সেখানেই শাহনাজ ও হ্যাপি তাদের পায়ের জুতা খুলে নুর মোহাম্মদকে পেটাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি সাহায্যের আকুতি জানালে সেখানে জড়ো হওয়া লোকজন দুই নারীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তারা থামছিলেন না, মাঝে মধ্যে নুর মোহাম্মদ সুযোগ খুঁজে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দুইজনই দৌড়ে গিয়ে তাকে পাকড়াও করে জুতাপেটা ও কিল ঘুষি মারছিলেন। 

মারধরে কিছুটা আহত হন নুর মোহাম্মদ। তার পরনের শার্ট, গেঞ্জি ছিঁড়ে যায়। 

পরে শাহনাজ ও হ্যাপির আইনজীবী পাপিয়া সুলতানা এসে তাদের টেনে সেখান থেকে নিয়ে যান।

এই আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, “আজ একটা মামলার ধার্য তারিখ ছিল। আসামি নুর মোহাম্মদ আদালতে হাজির হন। তার সাবেক দুই স্ত্রীও আদালতে হাজির হন। শুনানি শেষে শাহনাজ ও হ্যাপি মিডিয়ার সাথে কথা বলছিলেন। তখন নুর মোহাম্মদ দুইজনকে তলপেটে লাথি মারেন। এর পরের ঘটনা তো আপনারা দেখলেন।”

হ্যাপি আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের কয় মাস পর ও আমাকে জোর করে তালাক দেওয়ায় ও লুকিয়ে থাকে। এর-ওর কাছে বলে বেড়ায় আমি খারাপ। আমি যদি এতো খারাপ হই, বিয়ের আগে দেখস নাই, আমি খারাপ না ভালো। 

“আমি আমার বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। কোনো অন্যায় ছিল না আমার। ধুমধাম করে, ওর চাহিদা পূরণ করে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে। ও একটা ফ্রড।” 

নুর মোহাম্মদের বিচার চান হ্যাপি। তার ভাষায়, “ও যেন আর কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করতে না পারে।”

শাহনাজ আক্তার বলেন, “২০১৫ সালে আমাদের বিয়ে হয়। ২০১৭ সালে আমার প্রথম বেবি (মেয়ে) হয়। ২০২২ সালে দ্বিতীয় মেয়ে হয়। মেয়ে হওয়ায় ও আমাকে ডিভোর্স দেয়। পরে জানতে পারি ও দ্বিতীয় বিয়ে করছে। 

“আকুতি মিনতি করে বলেছি, ছোট একটা বাসা নিয়ে মেয়েসহ আমাকে রাখো। আমাকে কোনোভাবে রাখে নাই। মেয়ে দুইটাকেও দেখতে দেয় না। আমাকে শেষ করে ফেলছে। ওর এ ধরনের ক্রাইমের সাথে ওর পরিবারও জড়িত। ওদের ফাঁসি চাই। 

‘নিজের জীবনের চেয়ে নুর মোহাম্মদকে বেশি ভালোবাসতেন’ দাবি করলেও শাহনাজ তার সাবেক স্বামীর ফাঁসি চান এখন। 

তবে সাবেক দুই স্ত্রীর অভিযোগ নাকচ করে নুর মোহাম্মদ বলেন, “হ্যাপি আক্তার প্রতারণা করে আমাকে বিয়ে করছে। তাকে বলছি, আমার স্ত্রীকে ছাড়তে পারবো না। সে এতো খারাপ মানুষ না। কিন্তু হ্যাপি হুমকি দেয়, প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিলে থানায় নিয়ে যাবো। বাধ্য করে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিতে।”

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “আমার প্রথম স্ত্রীর পরিবার আর্থিকভাবে চাপ দেয়। এ নিয়ে তাদের সাথে মনোমালিন্য হয়। এ কারণে তাকে তালাক দিই। বাচ্চা নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করে। দ্বিতীয় ফ্রড এসে বলে বাচ্চার দায়িত্ব নেবে। 

“প্রথম স্ত্রীর ভাই কয়েকদিন পর পর শুধু টাকা চায়। না দিলে বিভিন্নভাবে আমাকে চাপ দেয়। মিথ্যা রটনা রটায়। হেয় প্রতিপন্ন করে। আমার মেয়ে বলে, আব্বু বিভিন্ন লোকজন বাসায় আসে। তারা থাকে। আমাকে মারধর করে অন্য রুমে রেখে দেয়। পরে তাকে তালাক দিই।” 

হ্যাপি আক্তার তার প্রথম স্ত্রী শাহনাজকে ‘বিভ্রান্ত’ করেছেন দাবি করে নুর মোহাম্মদ বলেন, “আজ কোর্টে আসছি। আমার ওপর অর্তকিত হামলা করেছে। আমার কী অবস্থা করছে দেখেন।”