Published : 12 Sep 2026, 08:49 PM
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ২০৩৪ সালের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে দেশের এভিয়েশন খাতকে একটি বিশ্বমানের আঞ্চলিক হাবে পরিণত করার কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
সরকারের রাজনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, “শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনাল নিয়ে একটি লাভজনক চুক্তির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে সরকার। পর্যায়ক্রমে সফট ওপেনিং এবং আশা করা যাচ্ছে আগামী এপ্রিলেই এটি পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করবে।”
শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার কুর্মিটোলার ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বিশ্বমানের এভিয়েশন’ শীর্ষক নীতি সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বিগত সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিগত ব্যর্থতার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত ১৫-১৬ বছর ধরে এই দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না। তাই নীতিগত সহায়তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিংবা নীতিগত পরিবেশ সহায়ক না থাকা কোনো বিস্ময়কর বিষয় নয়। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এই খাত এবং দেশের অন্যান্য খাতগুলোকে লুটেপুটে খাওয়া।”
নতুন সরকার এভিয়েশন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে বদ্ধপরিকর বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে, যা দেশের জন্য গর্বের কারণ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
থার্ড টার্মিনালের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেন, যেখানে তিনি নিজে এবং বিমানমন্ত্রী ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এই টার্মিনাল চালু হলে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ যাত্রী যাতায়াতের সুবিধা পাবেন, যা বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ এভিয়েশন হাবে পরিণত করার ধারা সূচনা করবে।”
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদাহরণ টেনে তিনি আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ ও ‘ওপেন স্কাই পলিসি’ (মুক্ত আকাশ নীতি) বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, “বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ফ্লাইট যেন বাংলাদেশকে গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহার করে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং তার বাইরের দেশগুলোতে যাতায়াত করতে পারে, আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করব।”
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ বিমান। ফরাসি কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বোয়িং কেনা হবে নাকি এয়ারবাস, তা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।