০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দুই মাসের মধ্যে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকার দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ স্থাপন নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 07:37 PM

Updated : 08 Oct 2026, 07:37 PM

দেশে ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণের নিদের্শনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ সংক্রান্ত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন বলে তথ্য দিয়েছেন তার উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা।

তিনি বলেন, “সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তুলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ এবং ঢাকা মহানগরীতে অর্থাৎ উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ স্থাপনে নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

“ঢাকা মহানগরীতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে সেখানে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সভায়।”

উপ প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী সভায় বলা হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় খেলার মাঠের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি মাঠের আয়তন সর্বনিম্ন তিন থেকে সর্বোচ্চ আট বিঘা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সুজাউদ্দৌলা বলেন, “ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি ক্রীড়া ইভেন্ট চালু করা হবে। এতে প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

“আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে একযোগে ৫০৩টি উপজেলায় এই ক্রীড়া ইভেন্টের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল ও খেলাধুলার উপযোগী করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাব কার্যক্রম চালুর বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

“প্রধানমন্ত্রী দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে একটি সুস্থ, সুন্দর ও ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।”

সভায় শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর ইসলাম খান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমীন উপস্থিত ছিলেন।