২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও ভোট নির্বিঘ্ন করার দাবিতে মানববন্ধন

“একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটের যে পরিবেশ তৈরি করার কথা, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, সরকার উভয়ই নির্লিপ্ততা প্রদর্শন করছেন,” বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বিডিনিউজ২৪

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Feb 2026, 12:03 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

সংখ্যালঘু ও নারীসহ সমাজের সব পর্যায়ের ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ভোট প্রয়োগের অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠন।

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে রোববার ‘নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন, আদিবাসী সংগঠন, নারী উন্নয়ন সংগঠন মানববন্ধন করেছে।

মানবন্ধনে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “ভোটকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শুধু আদিবাসী, সংখ্যালঘু বা নারীরাই নয়, প্রার্থীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটের যে পরিবেশ তৈরি করার কথা, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, সরকার উভয়ই নির্লিপ্ততা প্রদর্শন করছেন।” 

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনে নারী, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শঙ্কাহীন উপস্থিতি নিয়ে আজকে আমাদের এখানে মানববন্ধন করার কথা নয়। ভোটাধিকার নির্বিঘ্নে প্রয়োগ করা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিতে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে।”

মানববন্ধনে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ‘নিজেরা করি’ এর সমন্বয়ক খুশী কবির, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও বক্তব্য দেন।

ইসির সঙ্গে টিআইবি ও ‘নিজেরা করি’র বৈঠক

নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী ও আদিবাসীসহ প্রান্তিক মানুষের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে টিআইবি ও ‘নিজেরা করি’।

সোমবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান ও ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির।

বৈঠক শেষে ইফতেখারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের দেশে রাজনীতি ও নির্বাচন কয়েকটা বিষয়ে খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থ, কৃষি, ধর্ম, পুরুষতান্ত্রিকতা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা। এই পাঁচটা উপাদানের কারণে নারী, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আদিবাসী মানুষ এবং বিশেষ করে শারীরিক, দৃষ্টি ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিনে এসব জনগোষ্ঠী সমান প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।”

খুশী কবির বলেন, “আমাদের মূল চিন্তা ছিল, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যার মধ্যে নারীরাও আছে। সংখ্যায় ৫১ ভাগ হলেও নারীরা বাস্তবে প্রান্তে থাকেন। ভোটের আগে ও ভোটের দিন নারীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করে তারা ভোট দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে শঙ্কা থাকে।

“নির্বাচনের সময় নারীরা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে এক ধরনের ভয় কাজ করে। এ ছাড়া নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও তাদের মধ্যে শঙ্কা থাকে।”