Published : 10 Jul 2025, 09:30 PM
‘শারীরিক ও মানসিক হেনস্তা’ থেকে সুরক্ষা চেয়ে মা ও বাবার বিরুদ্ধে কেন আদালতে অভিযোগ জানাতে হল, সেই ব্যাখ্যা বিচারকের সামনে তুলে ধরেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি ইংরেজি মাধ্যেমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘এ’ লেভেলের সেই ছাত্রী।
১৯ বছরের ওই তরুণী বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর হাকিম এম এ আজহারুল ইসলামের আদালতে অভিযোগের শুনানিতে বলেন, “আমি সুন্দর একটা জীবন চেয়েছিলাম। কিন্তু আমি তা পাচ্ছি না।”
বাবা ও মা বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ গত ২২ জুন সুরক্ষা চেয়ে এ আদালতে আবেদন করেন ওই তরুণী। সেদিন বিচারক ওই তরুণীর মা-বাবাকে ১০ জুলাই আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন।
সে অনুযায়ী তার মা-বাবা বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হন। তাদের সামনে আদালতের কাছে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেন তাদের মেয়ে।
শুনানিতে তিনি বলেন, “তাদের (বাবা-মা) মাধ্যমে আমি পৃথিবীতে এসেছি, এটা আমার দোষ না। আমি তাদের পাপেট (পুতুল) নই। আমাকে কেন গালি দেবে। আমাকে শারীরিক, মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে।
“আমি খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না। আমাকে তারা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে। ব্রেইন অ্যান্ড মাইন্ড হাসপাতালে আমাকে দুই বছর রাখা হয়। সেখানে আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছে। আমাকে কেন ওই হাসপাতালে রাখা হল জানতে চাই।”
শুনানিতে ওই তরুণী বেশিরভাগ কথাই বলেন ইংরেজিতে। তিনি বলেন, “আমি জাস্টিস চাই।”
আদালতে কথা বলার সময় তার মাকে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে শুনতে দেখা যায়। অন্যদিকে বাবা অপলক দৃষ্টিত মেয়ের দিকে তাকিয়ে ছিলেন।
পরে তরুণীর মা-বাবার আইনজীবী আবুল হোসেন আদালতে বলেন, “সে তার বাবা-মায়ের একমাত্র সম্বল, একমাত্র আশা ভরসার স্থল। বাবা-মাও চান তাদের মেয়ে সুরক্ষার আদেশ পাক। দেশের বাইরে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়ের উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।”
শুনানি শেষে আদালত ২৪ জুলাই বিষয়টি আদেশের জন্য রাখেন।
ওই তরুণীর আইনজীবী ইসফাকুর রহমান গালিব বলেন, “আদালত আজ উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। এ সময় বাদীপক্ষ থেকে জানানো হয়, বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই বাদী পরিবারের সদস্যদের অবহেলা ও তাদের দ্বারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।
“তাই তিনি পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন ২০১০ অনুযায়ী সুরক্ষা আদেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যয়ভারের জন্য আবেদন করেন। আদালত ২৪ জুলাই আদেশের জন্য রেখেছেন।”
তরুণীর করা অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ মে সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসায় মেয়েটিকে ‘শারীরিকভাবে আঘাত’ এবং ‘অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’ করেন তার বাবা-মা। আঘাতে তার শরীরে জখম হয়। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও বাবা-মা তার ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, অপমান ও নির্যাতন’ করে যাচ্ছেন। পরিবারের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র ব্যবহারে তাকে বাধা দিচ্ছেন।
আরও বলা হয়, “পারিবারিক সম্পর্কের কারণে যে সকল সম্পদ বা সুযোগ সুবিধা ব্যবহারের অধিকার রয়েছে, তা থেকে বঞ্চিত করে এবং বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। তারা মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা, ভীতি প্রদর্শন, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। শারীরিকভাবে আঘাত করে নির্যাতন হয়েছে, যার মাধ্যমে সহিংসতা ঘটেছে।”
পুরনো খবর