২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

উদ্ধারের পর মায়ের কোলে ফিরল শিশু জাইফা

ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠা ফাতেমা আক্তার শাপলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Nov 2024, 09:58 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:23 PM

রাজধানীর লালবাগের এক বাসায় দিনে দুপুরে ডাকাতি করতে ঢুকে মালামালের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া আট মাসের শিশুটিকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব।  

শনিবার সকালে র‌্যাবের এক বার্তায় বলা হয়, শুক্রবার মধ্যরাতে মোহাম্মদপুর থেকে শিশু জাইফাকে উদ্ধার এবং এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‌্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, “ওই বাসায় সাবলেট হিসেবে ওঠা ফাতেমা আক্তার শাপলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকেই শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।”

“উদ্ধারের পর রাতেই শিশুটিকে মায়ের কাছে দেওয়া হয়েছে,” বলেন র‌্যাবের কর্মকর্তা। 

এ বিষয়ে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবে র‌্যাব। 

শুক্রবার দুপুরে লালবাগ টাওয়ারের পাশের একটি বাসায় দোতলা বাড়ির নিচতলায় আবু জাফর ও ফারজানা আক্তার দম্পতির ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে মালামাল ও তাদের আট মাস বয়সী দুধের শিশুটিকে নিয়ে যায় কয়েকজন। 

ঘটনার পর পুলিশের একাধিক টিমের পাশাপাশি র‌্যাবও মাঠে নামে দুর্বৃত্তদের ধরতে। 

স্বজন ও প্রতিবেশীরাও বলছেন, বৃহস্পতিবার রাতে ‘পেয়িং গেস্ট’ হিসেবে ওই বাড়িতে ওঠা এক নারী সকালবেলা আরও তিনজন পুরুষ সহযোগীসহ শিশুটিকে নিয়ে চলে যান।

তাদের পারিবারিক বন্ধু ও ফারজানার সহকর্মীর স্বামী মো. রানা জানিয়েছিলেন, সকালে ঘটনা শুনে তারা বাসায় এসে দেখেন, আলমারি খোলা, ফারজানার নাকে, কানে সাধারণ যে গয়নাগুলো থাকে সেগুলোও নেই।

ফারজানা তাকে বলেছেন, আলমারিতে থাকা দেড় লাখ টাকাও নিয়ে গেছে ডাকাতরা। যাওয়ার সময় বলে গেছে, “তোর বাচ্চাকে ইনডিয়ায় পাঠায় দেব।”

গত এক মাস বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ফারজানার বাবা-মা এ বাসাতেই ছিলেন। শুক্রবার সকালে তারা বরিশালে গ্রামের বাড়ি চলে যান। তার আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে ফারজানা ওই ‘পেয়িং গেস্ট’কে বাসায় রাখেন।

সকালবেলা ফারজানার বাবা মা বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই তিনজন লোক বাসায় আসে। পেয়িং গেস্ট সেই নারী তাদের দরজা খুলে দেন।

সিসি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে তারা বাসায় ঢোকে। এর মধ্যে ফারজানাকে বেঁধে লুটপাট শেষে শিশুটিকে নিয়ে ৯টা ২৪ মিনিটে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় তারা।

যেভাবে ঘটনা

মো. রানা জানান, ফারজানা তাদের বলেছেন, পেয়িং গেস্ট হিসেবে বাসা ওঠা ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল স্টাফ বাসে। ওই নারী ফারজানাকে বলেছেন, তিনি সরকারি পরিবহন পুলে চাকরি করেন, পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর ফারজানা তাকে বাসায় থাকার কথা বলেন।

ফারজানা তাদের (রানা ও তার স্ত্রীকে) বলেছেন, সকালে তার বাবা-মা চলে যাওয়ার পর মেয়েটি বাজার করার কথা বলে বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরেও আসেন। কিছুক্ষণ পর কলিংবেল বাজলে মেয়েটি দরজা খুলে দেয়। এরপর তিনজন পুরুষ বাসায় ঢুকে পড়ে।

“ঢুকেই তারা ফারজানার উপর আক্রমণ চালায়। ফারজানাকে বেঁধে টাকা পয়সা লুট করে তার শিশুটিকে নিয়ে তারা চলে যায়।”

২৫ মিনিটে গৃহকর্ত্রীকে বেঁধে লুটপাট শেষে সন্তানকে নিয়ে যায় 'ডাকাতরা'

মালামালের সঙ্গে ফুটফুটে শিশুটিকেও নিয়ে গেছে ডাকাতরা