ইউপি নির্বাচন: নির্দলীয় ভোটে দলের সহায়তা চেয়ে মতবিনিময় করবে ইসি
প্রায় এক দশক পর এবার স্থানীয় সরকারে নির্দলীয়ভাবে ভোট হবে।
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন।
নভেম্বর থেকে মে মাসের মধ্যে সাত ধাপে ভোট হবে। এ নির্দলীয় নির্বাচন উপলক্ষে অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে।
সোমবার নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে এ তথ্য দেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
“আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করব এবং এই আলোচনাটা তিন ধাপে সম্পন্ন করব বলে আশা করছি।
“আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবার) রেজিস্ট্রেশন সিকোয়েন্স অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে ইনভাইট করব।”
প্রায় এক দশক পর এবার নির্দলীয়ভাবে ভোট হবে স্থানীয় সরকারে।
দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ৬০টি দল রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, দলগুলোর প্রতেকটির দুজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে মূলত সহযোগিতা চাওয়া।
“যাতে করে সংসদ নির্বাচন যেরকম সুশৃঙ্খলভাবে এবং কোনো ধরনের গন্ডগোল ছাড়া সম্পন্ন করতে পেরেছি, সেভাবে যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা শুরু করতে পারি এবং শেষ করতে পারি।”
স্থানীয় সরকারের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষেদের ভোট হতে যাচ্ছে নভেম্বরে।
এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনার সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে নির্বাচন উপযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাত ধাপে ভোট নেবে।
সোমবার কমিশনে আলোচনার পর বিকালে সাংবাদিকদের কাছে সাতটি ধাপে ভোটের সম্ভাব্য সময় তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।
প্রথম ধাপের নির্বাচন ১২ নভেম্বর শুরুর কথা জানান তিনি।
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “ভোটের তারিখ নিয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলো চূড়ান্ত নয়। তবে এটাকে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নিতে পারেন।”
নির্বাচন কমিশনের আরেকটা প্রস্তুতিমূলক সভা আছে ১৭ সেপ্টেম্বর, সেখানে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে, বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, বর্তমানে দেশে ৪৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৪২৭২টি আইন অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিলে আসবে।
স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে।
“বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে এর মধ্যে কতগুলো ইউনিয়ন পরিষদ আছে যেগুলো ওভারম্যাচিউর হয়ে গেছে। আমরা প্রসেসটা শুরু করে নিতে চাচ্ছি।”
সবশেষ ইউনিয়ন পরিষদ ভোট হয়েছে ২০২১ সালের এপ্রিল, নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে; সেবারও সাত ধাপে ভোট হয়েছিল।
ভোটের তারিখ নির্ধারণে পরীক্ষা বিবেচনা
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি-বিভিন্ন বাৎসরিক ইন্টারভেনশন যেগুলো আছে; টেস্ট পরীক্ষা, বাৎসরিক পরীক্ষা, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, এসএসসি পরীক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রোজার ঈদ এবং সবশেষে হচ্ছে ঈদুল আযহা-এই সবগুলো বিবেচনায় নিয়ে যে স্লটগুলো পেয়েছি সেখান থেকে আমরা আশা করছি যে সাতটা ধাপে আমরা এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারব।”
সম্ভব হলে পাঁচটা ধাপের মধ্যেই নির্বাচন উপযোগী সিংহভাগ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করে ফেলার পরিকল্পনার কথা বলেছেন তিনি।
তারপরে শেষের দুটো ধাপে (ষষ্ঠ ও সপ্তম) বাকি ইউনিয়ন পরিষদগুলো এবং কোনো কারণে আটকে থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন করা হবে, বলেন এ নির্বাচন কমিশনার।
তিনি জানান, এ মুহূর্তে আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছে ৫৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। সেগুলোতে নির্বাচন শেষের ধাপগুলোতে করা হবে।
৬৪ জেলায় ইউপি ভোটের সম্ভাব্য সময়:
>> প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর; প্রায় ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদ।
>> ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপের ভোট।
>> তৃতীয় ধাপের ভোট ৩০ ডিসেম্বর।
>> আগামী বছর ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ।
>> পঞ্চম ধাপের ভোট আগামী বছর ৪ ফেব্রুয়ারি।
>> আগামী বছর ২২ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ ধাপের নির্বাচন।
>> সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট আগামী বছর ২৭ মে।
প্রথমধাপে কোন কোন ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হবে, তা আরও আলোচনা করে কমিশন সুনির্দিষ্ট করে পরে জানাবে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “প্রথম ধাপে কোন ইউনিয়নে, সেগুলো আরো পরে ওয়ার্কআউট করা হবে। রাফলি যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে আজকে কমিশন থেকে- প্রথম ধাপে আনুমানিক ৮০টা উপজেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করতে পারব।
“প্রাইমারি ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে-যেসব ইউনিয়ন ম্যাচিউর হয়ে গেছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথম দিকের ধাপে শেষ করা।”
নির্বাচন কমিশনার ৬৪ জেলায় একসঙ্গে এ স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনটা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে, বলেন তিনি।
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “শুধুমাত্র এ ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে ঠাকুরগাঁও বাদ থাকবে। কারণ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। আমরা চাই না দুটো নির্বাচনের প্রচার একসঙ্গে শুরু হোক। এ জেলা দ্বিতীয় ধাপে হবে। সদর উপজেলাগুলো প্রথম ধাপে থাকবে।”
তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সহজ করতে আন্তঃজেলা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে কমিশন। আগামী সপ্তাহে ২১ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা বৈঠকও হবে।
নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “আনুমানিক ৮০টা উপজেলার সকল ইউনিয়নের নির্বাচন দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন শুরু হবে। আমরা ইন্টার ডিপার্টমেন্টাল একটা মিটিং কল করেছি। সকল মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ এখানে উপস্থিত থাকবেন। আইনশৃঙ্খলার বৈঠকটা হবে ২১ সেপ্টেম্বর।”
আরও পড়ুন:
