বিদেশফেরতদের নতুন জীবন গড়তে সরকার ও জাতিসংঘের ৩০ মাসের কর্মসূচি
কোনো সংকটের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের সমস্যা বেশি হয়।
বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আসা ব্যক্তিরা যেন সম্মানের সঙ্গে নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক সহায়তা ও সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ যৌথভাবে একটি কর্মসূচি চালু করেছে।
৩০ মাসের এই কর্মসূচিতে জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থা কাজ করবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা নারী ও শিশু এবং সংকটের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া অভিবাসীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর বিষয়টিকে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) ও জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা (ইউএন ওমেন) এ কর্মসূচিতে কাজ করবে।
জাতিসংঘের মাইগ্রেশন মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কর্মসূচিটি পরিচালিত হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কর্মসূচি সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন লরা টম বন্দ।
অনুষ্ঠানে লরা টম বন্দ বলেন, “অভিবাসন কোনো একমুখী প্রক্রিয়া নয়। তাই দেশে ফেরা অভিবাসীরা যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষা পেয়ে আবার দাঁড়াতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
টেকসইভাবে তাদের নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ দিতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সব পর্যায়ে সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আইওএম মিশন প্রধান বলেন, “এই যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে জাতিসংঘের সংস্থাগুলো তাদের সম্মিলিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সমন্বিত ও অভিবাসীবান্ধব একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, “দেশে ফিরে আসা অভিবাসী ও তাদের পরিবারের এমন সেবা, সুযোগ ও সহায়তা প্রয়োজন, যা তাদের নতুন করে জীবন গড়ে তুলতে এবং নিজ নিজ সমাজে অবদান রাখতে সহায়তা করবে।”
তিনি বলেন, “সরকার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই সহায়তা আরও শক্তিশালী করতে এই অংশীদারত্ব সহায়তা করবে।”
কী আছে কর্মসূচিতে?
কর্মসূচির আওতায় বিদেশ থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা দেওয়া হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা জোরদার করা হবে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সাল থেকে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজের জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ লাখের বেশি নারী।
দেশে ফিরে অনেকেই চাকরি বা আয় করার সুযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া এবং বিদেশে থাকার সময়ের নানা মানসিক চাপ মোকাবিলায় সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে হঠাৎ বা কোনো সংকটের কারণে দেশে ফিরতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের এসব সমস্যা বেশি হয়।
কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জেন্ডার-সংবেদনশীল নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিদেশফেরত অভিবাসীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রত্যেক ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা পরিকল্পনা তৈরি, সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং শ্রমবাজারে কাজের সুযোগ তৈরির মতো উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম, বৈষম্যমূলক সামাজিক রীতিনীতি মোকাবিলা এবং জেলা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মতো উদ্যোগও পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতিসংঘ উইংয়ের প্রধান এ কে এম সোহেল, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী, জাতিসংঘ উইংয়ের যুগ্মসচিব কাজী শাহজাহান উপস্থিত ছিলেন।
