১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সরকারি চাকরি আইন বাতিলে বিক্ষোভ: সোমবার দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি

“আমাদেরকে আলোচনা প্রক্রিয়ায় রাখা হচ্ছে না, আমরা কোনো সংশোধন মানিনা। আমরা এই অধ্যাদেশ বাতিল চাই।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jun 2025, 02:41 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:14 PM

সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবেশ পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন আন্দোলনে নামা কর্মচারীরা।

রোববার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বেলা ১১টা থেকে সচিবালয়ের বিভিন্ন অলিগলিতে বিক্ষোভ শুরু করেন কর্মচারীরা। এক পর্যায়ে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবনের সামনে অবস্থান নেন।

সেখানে সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী ঐক্য ফোরামের নেতারা একে একে বক্তব্য রাখেন। কর্মসূচি শেষে সোমবার দুই ঘন্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়।

ঐক্য ফোরামের কো চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, “সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাইব্রেরিতে এবং এর বাইরে দুই ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতি পালন করব। সকাল ১১টায় অবস্থান শুরু করে দুপুর ১টায় জোহরের নামাজ পড়ে আমরা শেষ করবো।“

সরকার তাদের দাবি না মানলে সারাদেশে আন্দোলন জোরদার করা হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

নুরুল ইসলাম বলেন, “বিভিন্ন মাধ্যমে শুনতে পাচ্ছি অধ্যাদেশটি সংশোধন করা হবে। কিন্তু আমাদেরকে আলোচনা প্রক্রিয়ায় রাখা হচ্ছে না। আমরা কোনো সংশোধন মানিনা। আমরা এই অধ্যাদেশ বাতিল চাই।”

আরেক কো চেয়ারমন্যান বাদিউল কবীর বলেন, “আইন অনুযায়ী সচিবালয় হচ্ছে কেপিআইভূক্ত এলাকা। এখানে মিছিল মিটিং চলেনা। তবুও বাধ্য হয়ে শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি করছি।“

অবিলম্বে দাবি মেনে নিয়ে তাদেরকে কাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

কর্মচারী নেতাদের কেউ কেউ বলেন, নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হলেও ২০২৮ সালের চাকরি আইন অনুযায়ী সরকার শনিবার কয়েকজন সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে। 

আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, “ফলে বোঝা যাচ্ছে সরকার নিজেই তাদের অধ্যাদেশ অনুসরণ করতে চাচ্ছে না। সেজন্য আমরা অবিলম্বে এই অধ্যাদেশ বাতিল চাই।“

 অধ্যাদেশ পরিবর্তনের ইঙ্গিত সরকারের একাধিক উপদেষ্টার বক্তব্য থেকেও পাওয়া গেছে। 

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, এই আইনের মাধ্যমে সরকারি চাকুরেরা ‘বিড়ম্বনা বা হয়রানির শিকার’ হতে পারেন।

এ পরিস্থিতিতে কিছু জায়গায় এই অধ্যাদেশটির পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

উপদেষ্টা পরিষদগত ২২ মে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারি করার প্রস্তাবে সায় দেয়।

এর প্রতিবাদে ২৪ মে সকাল থেকে দিনভর সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আপত্তির মধ্যেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৫ মে রাতে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

সেখানে পুরনো আইনের সঙ্গে ‘৩৭ক’ নামের আরেকটি ধারা সংযোজন করা হয়।

নতুন ধারায় একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দুই দফায় সাত দিন করে নোটিসের পর, দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাখার বিধান রাখা হয়েছে।

আন্দোলনের মধ্যেই  গত ২৫ মে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশটি জারি করে সরকার। কিন্তু এই আইনকে নিবর্তনমূলক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে তখন থেকে টানা বিক্ষোভ দেখিয়ে আসছেন সচিবালয়ের কর্মচারীরা। 

সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ 'পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে': আইন উপদেষ্টা

আইন বাতিল না হলে এই বিক্ষোভ সারাদেশের সরকারি অফিসগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও তারা হুমকি দেন।

এই পরিস্থিতিতে গত ৪ জুন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে প্রধান করে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় একটি কমিটি করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে দুই দফা সভা করেছে।

নতুন এই অধ্যাদেশকে আন্দোলনকারীরা বলছেন ‘নিবর্তনমূলক কালো আইন’।

অধ্যাদেশে ‘আচরণ বা দণ্ড সংক্রান্ত’ বিশেষ বিধানে বলা হয়েছে-

>> কেউ যদি এমন কাজ করে যা অনানুগত্যের সামিল এবং যা অন্য কর্মচারীদের মাঝে অনানুগত্য সৃষ্টি করতে পারে বা শৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটাতে পারে বা অন্যের কর্তব্য পালনে বাধার সৃষ্টি করতে পারে;

>> এককভাবে বা সম্মিলিতভাবে ছুটি ব্যতীত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে। কাউকে কর্মবিরতিতে বাধ্য বা উস্কানি দেওয়া, অন্য কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়া হলে;

>> কোনো কর্মচারীকে তার কর্মস্থলে আসতে বা কাজ করতে বাধা দেওয়া হলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হবে।

এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে পদাবনতি বা গ্রেড অবনতি, চাকরি থেকে অপসারণ কিংবা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

এসব অসদাচরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গঠন, সাত দিনের সময় দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ জানিয়ে জবাব না দিলে আবার সাত দিনের নোটিস দেওয়ার পর তা বিবেচনা করে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর আপিল রাখার সুযোগ রয়েছে। দণ্ডের নোটিস হাতে পাওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে আপিল করা যাবে।