Published : 06 Aug 2026, 09:20 PM
বিশ্বাসভঙ্গ ও জাল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক চার কর্মকর্তাকে আলাদা তিনটি ধারায় ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১ এর বিচারক মুহা. হাসানুজ্জামান এ রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব দে এ তথ্য দিয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-ব্যাংকটির সাবেক কেন্দ্রীয় হিসাব বিভাগ ও ইনভেস্টমেন্ট বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু মোহাম্মদ সাঈদ খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার প্রবীর কুমার ভৌমিক ও শওকত আলী।
বিশ্বাসভঙ্গের অপরাধে প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
জাল-জালিয়াতের দায়ে প্রত্যেককে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড না দিলে তাদের আরও তিন মাস কারাদণ্ডের সাজা খাটতে হবে।
আর অর্থ আত্মসাতের দায়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৩ মাস কারাগারে থাকতে হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের কৌঁসুলি মীর আহম্মেদ আলী সালাম জানান, তিন ধারার সাজা একত্রে চলবে। সেক্ষেত্রে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
আসামিদের মধ্যে শওকত আলী আদালতে হাজির হননি। তারপক্ষে তার আইনজীবী কামরুল ইসলাম সময় চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, শওকত আলীর স্ত্রী অসুস্থ এবং তার ভাবী মারা গেছেন। তবে আদালত সময় আবেদন নামঞ্জুর করেন। তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
অপর তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০০২ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ ইউসূফ আলী নামে এক ব্যক্তি ঢাকা ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৭ লাখ টাকা ঋণ মঞ্জুর হয়। এর বিপরীতে তার কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের এক হাজার শেয়ার এবং মেঘনা সিমেন্ট লিমিটেডের সাড়ে ৭ হাজার শেয়ার জামানত হিসেবে রাখা হয়।
পরে ইউসূফ আলীর আবেদনে ঋণসীমা ১৭ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৪ লাখ টাকা করা হয়।
পরবর্তীতে জামানত হিসেবে ইউসূফ আলীর রাখা শেয়ার যাচাই করে জানা যায়, সেগুলো ভুয়া। তিনি প্রতারণা করে ভুয়া ও জাল শেয়ার ব্যাংকে জমা করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
আসামি শওকত আলী ব্যাংক হিসাব খোলার সময় ইউসূফ আলীকে শনাক্ত করেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে ওই কাজে তাকে সহায়তা করে পরস্পর যোগসাজসে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যাংকটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সিরাজুল হক ২০০৮ সালের ৩১ মে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর শওকত আলীকে একমাত্র অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম। ২০০৯ সালের ২৭ জুলাই মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার শুরুর পর মামলাটি অধিকতর তদন্ত পাঠানো হয়।
অধিকতর তদন্ত শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত এ চার জনকে অভিযুক্ত ২০২৩ সালের ২২ অগাস্ট অভিযোগপত্র জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক কামিয়াব আফতাহি-উন-নবী।
তবে ইউসুফ আলীর সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
গত বছরের ১৬ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত চার আসামির সাজার রায় দিল।