২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯ কার্তিক ১৪৩৩

ভয়ঙ্কর শক্তি নিয়ে উড়িষ্যার পথে পাইলিন

আরো শক্তি সঞ্চয় করে ভারতের উড়িষ্যা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ‘অতি প্রবল’ ঘূর্ণিঝড় ‘পাইলিন’, থাই ভাষায় যার অর্থ নীলকান্তমণি।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Oct 2013, 02:45 PM

Updated : 13 Oct 2022, 03:00 PM

পুরনো খবর:

বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ‘পাইলিন’

ঘণ্টায় ২১০ থেকে ২২০ কিলোমিটার বেগের ঝড়ো হাওয়া নিয়ে এই ‘সাইক্লোন’ শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর।

ভারতের আয়তনের প্রায় অর্ধেক বিস্তৃতির ভয়ঙ্কর এই ঝড় উপকূলে পৌঁছানোর পর আরো শক্তিশালী হয়ে স্যাফির-সিম্পসন হারিকেন উইন্ড স্কেলে সর্বোচ্চ শক্তিশালী ৫ মাত্রার ‘সাইক্লোনে’ পরিণত হতে পারে বলেও আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড় পাইলিনের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও মংলা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং নিকটবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন ফুট উুঁচ জোয়ার হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘পাইলিন’  সামান্য  উত্তরপশ্চিম দিকে সরে গিয়ে শুক্রবার রাত ৯টায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম, কক্সবাজার বন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম এবং মংলা বন্দর থেকে ৬৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ওই সময় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৯০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছিল।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই উত্তাল।পাইলিন আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে বাংলদেশের আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন।

তারা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী  নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে । 

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এতামধ্যে উড়িষ্যা ও অন্ধ্র প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে। ঊপকূল ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের ইতোমধ্যে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। 

হিন্দুদের সবচে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার এই সময়ে ভারতের এ দুই প্রদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।  

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ ও পূনর্বাসন কাজের জন্য সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকেও প্রস্তুত হতে বলেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

এনডিটিভি বলছে, ঘূর্ণিঝড় পাইলিনের কারণে অন্ধ্রের শ্রীকাকুলাম এবং উড়িষ্যার গানজাম, পুরি, খোরদাহ ও জগৎসিংহপুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। 

উড়িষ্যা রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী সূর্য নারায়ণ পাত্র বলেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। ১৯৯৯ সালের ঘূর্ণিঝড় থেকে আমরা অনেক শিখেছি।”

ওই বছর প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে উড়িষ্যায় অন্তত ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

এশীয় দেশগুলোতে সামুদ্রিক ঝড়ের নামকরণের রীতি অনুযায়ী, এবারের ঝূর্ণিঝড়ের নামটি নেয়া হয়েছে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া দপ্তরের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে। থাই ভাষায় পাইলিন অর্থ নীলকান্তমণি।