রাজশাহী অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা বাড়াতে একনেকে প্রকল্প অনুমোদন
প্রায় দুই কোটি মানুষকে আরও বড় পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে এক হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গৃহীত এ প্রকল্পটি আগামী মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুনে শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী জেলা ও আশেপাশের প্রায় দুই কোটি মানুষকে আরও বড় পরিসরে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য এ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ২০১৭ সালে অস্থায়ীভাবে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এবার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রায় ৬৮ একর জমি অধিগ্রহণ করে ২১টি আবাসিক ও অনাবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়, এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে রাজশাহী জেলা ও এর আশেপাশের প্রায় ২ কোটি মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে এক হাজার ২০০ শয্যা নির্মাণ হবে।
প্রকল্পের অধীনে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৩ হাজার ৭০৭ বর্গমিটারের ১৬টি অনাবাসিক ভবন এবং ১ লাখ ৬ হাজার বর্গমিটারের পাঁচটি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হবে।
এছাড়া প্রায় দুই হাজার অফিস সরঞ্জামের পাশাপাশি আইসিটি সরঞ্জাম, ৫০টি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ৪টি আইসিটি সফটওয়্যার কেনা হবে বলে প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম জানা, একনেক বৈঠকে ১০ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ের মোট ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি সংশোধিত বাকি ছয়টি নতুন প্রকল্প।
এই খরচের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৫৬ কোটি টাকা দেওয়া হবে। বাকি ৪ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি ঋণ থেকে আসবে।
বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হচ্ছে-
>> ‘কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গৌরীপুর-আনন্দগঞ্জ-মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-হোসেনপুর জেলা মহাসড়ক যথাযথমানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। যার ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।
>> ‘মদনপুর-দিরাই-শাল্লা-জলসুখা-আজমিরীগঞ্জ জেলা মহাসড়ক-এর দিরাই শাল্লা অংশ পুনর্নির্মাণ প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৬২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
>> ‘মডার্নাইজেশন অব পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন-স্মার্ট গ্রিডস ফেজ ১ প্রকল্প, মডর্নাইজেশন অ্যান্ড ক্যাপাসিটি এনহান্সমেন্ট অব বিআরইবি নেটওয়ার্ক (ঢাকা-ময়মনসিংহ ডিভিশন) প্রকল্প। ব্যয় ১ হাজার ৬৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
>> ‘মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৬ষ্ট পর্যায়)।এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৫ কোটি টাকা।
>> ‘নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ থেকে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) ৪ লেনে উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ ২ লেনে উন্নীতকরণ
(১ম সংশোধনী) প্রকল্প। এতে ব্যয় বেড়েছে ৬৩ কোটি ৪ লাখ টাকা।
>> ‘বগুড়া শহর থেকে মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ (এন-৫১৯) প্রকল্প’। এতে ব্যয় বেড়েছে ৭৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
>> ‘বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙামাটি নদীর উপর গোমা সেতু নির্মাণ প্রকল্প’ (১ম সংশোধনী)। এতে খরচ বেড়েছে ৩৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
>> ‘দেশের গুরুত্বপূর্ণ ২৫টি (সংশোধিত ৪৬টি) উপজেলা সদর/স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন প্রকল্প’ (৩য় সংশোধিত)। এর ব্যয় কমেছে ১৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা।
>> ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড ক্যাপাসিটি এনহান্সমেন্ট অব বিআরইবি নেটওয়ার্ক (ঢাকা-ময়মনসিংহ) প্রকল্প’। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ১৭৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
আরও খবর
