জলবায়ু অভিযোজনে নদী-খাল খনন করছি: প্রধানমন্ত্রী
“বাংলাদেশ তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।”
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেওয়া নানামুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “এ বছরের বাজেটে আমরা জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছি। তার পরও আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া আমরা বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছি।
“আগামী পাঁচ বছরে আমরা ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছি। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে আমরা প্রায় ২০হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করছি।
“পাশাপাশি,আমরা পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা ব্যারেজের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছি।”
বুধবার বিকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’ বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে।
“আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।”
জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ ‘বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশে’ পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে সরকারপ্রধান এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ‘সম্মিলিত পদক্ষেপ’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, “বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০.৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।
“এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আমাদের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আমাদের জিডিপির ১ শতাংশের সমপরিমাণ। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকির মুখে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। আমরা পাটজাত পণ্য, পরিবেশবান্ধব পরিবহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং সার্কুলার অর্থনীতির উদ্যোগসহ সবুজ শিল্পের প্রসার ঘটাচ্ছি।
“একইসঙ্গে একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলার কাজ করছি। তবে এককভাবে আমাদের পক্ষে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’—এই নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য।”
এ পরিস্থিতির মোকাবিলায় পাঁচ দফা প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী, যার মধ্যে রয়েছে—
প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী প্রাক-শিল্পায়ন যুগের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে।
জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ সম্ভব করতে হবে।
সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে।
ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ করতে হবে।
বুধবার বিকালে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং টেকসই ও ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জলবায়ু সংক্রান্ত বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল—প্যারিস চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বাস্তবভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
জাতিসংঘের এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
