Published : 09 Oct 2024, 03:25 PM
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে রদবদলের অংশ হিসেবে পুলিশের আরও তিনজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
এই তিনজন হলেন র্যাবের সদ্য সাবেক মহাপরিচালক পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দিন খান এবং ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (সংখ্যাতিরিক্ত অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতি পাওয়া) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।
বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইনের ৪৫ ধারা অনুযায়ী ‘জনস্বার্থে’ তাদের চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে।
এই ধারা বলে চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার চাইলে কারণ দর্শানো ছাড়াই প্রজাতন্ত্রের কোনো কর্মচারীকে চাকরি থেকে অবসর দিতে পারে। চাকরি হারানো কেউ কোনো আপিলও করতে পারেন না। তবে পেনশনসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় ছয় জনকে। তারা হলেন- অতিরিক্ত আইজি দেবদাস ভট্টাচার্য ও আরআরএফের পুলিশ সুপার মীজানুর রহমান, শিল্পাঞ্চল পুলিশের ডিআইজি (সুপার নিউমারারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) এ কে এম হাফিজ আক্তার, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের টেলিকমের ডিআইজি (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) বশির আহম্মদ, ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার শামীম অর রশীদ তালুকদার, এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম এবং ডিএমপির সহকারী পুলিশ সুপার মো. দাদন ফকির।
তার আগে ২২ অগাস্ট বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি মোহাম্মদ আলী মিয়া, শিল্পাঞ্চল পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. মাহাবুবর রহমান এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্রকে।
২১ অগাস্ট পুলিশের সদরের অতিরিক্ত আইজি আতিকুল ইসলাম, সংখ্যাতিরিক্ত অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন এবং ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি পদমর্যাদার) মো. আসাদুজ্জামানকে অবসরে পাঠানো হয়।
আর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর গত ১৩ আগস্ট পুলিশের আলোচিত কর্মকর্তা এসবির অতিরিক্ত আইজি মনিরুল ইসলাম ও ডিএমপির সদ্য সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানকে অবসরে পাঠানো হয়।
একই দিনে অবসরে পাঠানো হয় রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিআইজি পদমর্যাদার) মো. মনিরুজ্জামান এবং পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল বাতেনকে।
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে ৫ অগাস্ট পতন হয় শেখ হাসিনা সরকারের। ওই সরকার আমলে আইজিপি ছিলেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। সরকার পতনের পরদিন ৬ অগাস্ট চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল হয় মামুনের।
সরকার পতনের পর সেনা হেফাজতে ছিলেন চৌধুরী মামুন। সেখানে থাকা অবস্থায় তার নামে মামলা হওয়ায় ৪ সেপ্টেম্বর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।