Published : 28 Sep 2025, 02:16 PM
দুদকের মামলায় চারদিনের রিমান্ড আদেশের পর কাঠগড়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন মিন্টো রোডে ‘সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির’ অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে রোববার ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
সে সময় এনায়েত করিমকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও, পরে তিনি সুস্থবোধ করায় তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
১১ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় এনায়েত করিমকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এনায়েত করিম চৌধুরীকে আটক করে রমনা মডেল থানা পুলিশ।
বিকেলে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন রমনা মডেল থানার এসআই আজিজুল হাকিম।
তবে ঢাকার মহানগর হাকিম দিলরুবা আফরোজ তিথি আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে ১৫ রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এরই মাঝে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধ আইনে রমনা মডেল থানায় মামলা করে পুলিশ।
এরপর তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দুই দফায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওইদিন তার সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদকেও পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এরই মাঝে এনায়েত করিম চৌধুরীকে দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এরপর এদিন তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম।
শুনানিতে সকালে এনায়েত করিমকে আদালতে হাজির করা হয়। বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, হাতে হাতকড়া পরিয়ে এজলাসে তোলা হয়।
প্রায় ৫০ মিনিট পর রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। পরে আদালত এনায়েত করিমকে চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় বলে প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন।
এরপর বেঞ্চে বসা এনায়েত করিম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হেলে পড়েন। সে সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য তাদের ধরে ফেলেন। তাকে পানি ও মিষ্টি চকলেট দেওয়া হয়। এরপর এনায়েত করিমকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ এসআই রিপন মোল্লা।
তখন এনায়েত করিম বলেন যে তিনি ঠিক আছেন। এজন্য তাকে আর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। পরে তাকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে এসআই রিপন মোল্লা বলেন, “আমরা এনায়েত করিমকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে আসামি জানিয়ে তিনি ঠিক আছেন। এজন্য তাকে আর হাসপাতালে নেওয়া হয়নি। তবে তাকে স্যালাইন, হালকা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। এখন তিনি আগের চেয়ে সুস্থ আছেন। ”
এদিকে এনায়েত করিমের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, “বেনজীর আহমেদের বিদেশে পাচার করা অর্থের সাথে এনায়েত করিম চৌধুরীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। বেনজীর আহমেদ কর্তৃক অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থের অবস্থান, বিনিয়োগের তথ্য, মালিকানা এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ডের প্রয়োজন।”
এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন। এতে বেনজীর, তার স্ত্রী জিশান মির্জা ও দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরকে আসামি করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে।
এজাহারে বলা হয়, ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উত্তোলনের পর কোথাও তাদের বিনিয়োগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তারা ২০২৪ সালের বিভিন্ন সময় তাদের নামীয় দীর্ঘদিনের এফডিআর হিসাব মেয়াদ পূরণের আগেই উত্তোলন করেন। এফডিআরের অর্থের গ্রহণযোগ্য কোনো উৎস পাওয়া যায়নি। র্যাবের মহাপরিচালক ও পুলিশের আইজিপিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে এ অর্থ অর্জন করেছেন।
দুদক বলছে, আসামারি অর্থ উত্তোলনের পরই বিদেশে চলে যান। ফলে ওই অর্থের প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপন করতে স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করেছেন।
অর্থপাচারের এ মামলার আগে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে দুদক।