Published : 30 Jun 2025, 06:08 PM
পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে ঢাকার সড়ক থেকে পুরোনো বাস ‘তুলে দেওয়া হবে’ বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এ কাজে বিআরটিএর সঙ্গে যৌথ অভিযানে নামা হবে বলেও জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেছেন, ২৫০টি নতুন বাস কেনার টাকার অনুমোদনও এরিমধ্যে পাওয়া গেছে।
সোমবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে চীনের বায়ু দূষণ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
সে সময় রিজওয়ানা বলেন, সড়ক থেকে পুরোনো বাস তুলে দেওয়ার বিষয়ে বিআরটিএর সঙ্গে যৌথ ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছিল।
“সে সময় বলা হয়েছিল পুরনো বাসগুলো আর চলতে দেওয়া হবে না। আমরা বিআরটিএর সঙ্গে মিলে পুরোনো বাসগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে যাব। কাজগুলো একইসঙ্গে হতে হবে, পুরনো বাস উঠবে, নতুন বাস নামবে।”
নতুন বাস কেনার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “ভালো খবর হচ্ছে আমরা এরইমধ্যে ২৫০টি নতুন বাস কেনার টাকার অনুমোদন পেয়ে গেছি। কিন্তু সরকারি যে প্রক্রিয়া সেগুলো শেষ করতে আমাদের সময়ে এই বাস কেনা হবে কি না জানি না। কিন্তু এটার অ্যালোকেশনটা আমরা পেয়েছি।”
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেবে সরকার।
শীত আসার আগেই রাজধানীর সব কাঁচা ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার সংস্কারকাজ শেষ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রিজওয়ানা বলেন, “ধুলা দূষণ কমাতে রাস্তায় মাটি ঢেকে দেওয়া, ও পানি ছিটানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ‘জিরো সয়েল’ নীতি কার্যকর, মাটি শক্তকরণ এবং পানি ছিটানোর গাড়ি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।”
এর আগে গেল বছর, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, বায়দূষণ কমাতে সারাদেশে সড়ক থেকে ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস-মিনিবাস এবং ২৫ বছরের বেশি পুরনো মালবাহী গাড়ি প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি উচ্ছেদে বহুবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে আদালতকেও আদেশ দিতে হয়েছে; কিন্তু কাজের কাজ হয়নি।
সরকারি হিসাবে দেশে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা পৌনে পাঁচ লাখের বেশি। আর গাড়ির ফিটনেস না থাকা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এদিন বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফারহিনা আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব মো. খায়রুল ইসলাম, চীনের নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অনুষদের নির্বাহী ডিন অধ্যাপক ইউ ঝাও, নানজিং-হেলসিঙ্কি ইনস্টিটিউটের উপ ডিন অধ্যাপক হাইকুন ওয়াং এবং বায়ুমণ্ডলীয় বিজ্ঞান অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক টেংইউ লিউ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুদূষণ) মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।