২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় সাবেক মন্ত্রী টুকুর ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

এস এম আসিফ শামস পাবনার বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 06:50 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:29 PM

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর ছেলে এস এম আসিফ শামসের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

পাবনার বেড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় এ মামলা করা হবে বলে মঙ্গলবার তথ্য দিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। 

অনুসন্ধানের বরাতে দুদকের নথিতে বলা হয়, শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থনৈতিক অপরাধে জড়িয়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের বিষয়ও সামনে আসে। সেই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে টুকুর ছেলে আসিফ শামসের সম্পদের হিসাব চাওয়ার উদ্যোগ নেয় কমিশন। আসিফের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়ার সুপারিশ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক আল-আমিন। এরপর কমিশনের সিদ্ধান্তে তাকে সম্পদ বিবরণী দিতে বলা হয়।

কনস্টেবল জামাল উদ্দিনকে আসিফের স্থায়ী ঠিকানায় সম্পদ বিবরণীর ফরম পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে গত ১৬ জানুয়ারি আসিফের কাছে ওই ফরম দেওয়া হয়। সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য তাকে ২১ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়সীমা গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। সময় বাড়ানোর জন্যও তিনি আবেদন করেননি। এ অবস্থায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এই ধারায় কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পদ বিবরণী দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

এর আগে শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে একটি মামলা করা হয়। মামলাটি এখন তদন্তাধীন।

টুকুর পরিবারের আরও দুই সদস্যের সম্পদের বিষয়েও অনুসন্ধান করছে দুদক। তার আরেক ছেলে এস এম নাসিফ শামস এবং তার স্ত্রী মুমতাহিনা মোস্তফার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান এখনও চলছে বলে দুদকের নথিতে বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট শামসুল হক টুকুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।