০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছয়তলায় হেঁটে ওঠানোয় ক্ষোভ পলকের, হাতকড়া সামনে পরানোর আর্জি

পরে পলককে লিফটে করে নিচে নামানো হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 02:38 PM

Updated : 08 Oct 2026, 02:38 PM

মামলার শুনানিতে হাঁটিয়ে আদালতের ছয়তলায় ওঠানোর ঘটনায় বিচারকের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একইসঙ্গে হাত সামনে রেখে হ্যান্ডকাফ পরানো আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ রবিউল আলমের আদালতে বৃহস্পতিবার জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে ট্রাক চালক হোসেন হত্যা মামলার শুনানিতে ক্ষোভের সঙ্গে এ আর্জি জানান পলক।

এদিন মামলার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। এ মামলায় কারাগারে থাকা ১০ আসামির মধ্যে পলকসহ আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।

এসময় বিচারকের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন পলক।

তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত, এটা কী ধরনের সিস্টেম—লিফট চালু দেখলাম; তার পরেও হাতকড়া পেছনে দিয়ে আমাকে ছয়তলা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানো হয়েছে। আদালতের কাছে আমার অনুরোধ, মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে হাতকড়া সামনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।”

তখন বিচারক বলেন, “এটা আপনাদের নিরাপত্তার জন্যই।”

তখন পলক বলন, “এটা আপনার অথরিটি না, এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। হাতকড়া সামনের দিকে রাখলেই হয়।”

এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে পলক বলেন, “আপনার থেকে আমার দূরত্ব বেশি দূরে নয়।”

এ মামলার দুই আসামি সাজ্জাদ হোসেন ও নাইমুল হাসান রাসেলকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করায় তাদের বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়নি। এজন্য অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী বেলাল হোসেন জানান, অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ঠিক করা হয়েছ।

পরে পলককে লিফটে করে নিচে নামানো হয়।

হাজতখানায় নেওয়ার পথে পলক সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “লিফট শুধু আমাদের জন্য নষ্ট থাকে।”

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরে হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন সাজ্জাদ ও শাহিন নামের দুই ব্যক্তি।

হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ অগাস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে গত ২৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. আকরামুজ্জামান।

এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

পলাতকের মধ্যে রয়েছেন—আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।