মা ভর্তি হাসপাতালে, আটতলা থেকে পড়ে প্রাণ গেল মেয়ের
“তিন বছর বয়সে আমার কলিজাটাকে দত্তক নিয়েছিলাম। কত আদরে মানুষ করেছি। আজ আমি সব হারালাম,” বলেন বাবা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আটতলা থেকে পড়ে ১৫ বছরের এক কিশোরীর প্রাণ গেছে।
শনিবার বিকালে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সামিয়া নুর নামে ১৫ বছরের মেয়েটি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। তিন বছর বয়সে তাকে দত্তক এনেছিলেন গাজীপুরের নিঃসন্তান দম্পতি নুরুন্নবী ও পারুল আক্তার। মেয়েকে হারিয়ে তাদের আহাজারি থামছে না।
সামিয়ার বাবা নুরুন্নবী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অস্ত্রোপচারের জন্য পাঁচ-ছয়দিন আগে স্ত্রীকে পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ অক্টোবর অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল। আট তলার একটি ওয়ার্ডে রেখে তার চিকিৎসা চলছিল।
“বেড থেকে খানিকটা দূরে বড় জানালার মত একটি জায়গা ছিল। দুপুরে সেখানে বসেছিল আমার মেয়ে। এরপর অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যায়।”
তিনি বলেন, “আমি নিঃসন্তান ছিলাম। তিন বছর বয়সে আমার কলিজাটাকে দত্তক নিয়েছিলাম। কত আদরে মানুষ করেছি। আজ আমি সব হারালাম। কী নিয়ে বাঁচবো।”
গাজীপুরের বোর্ডবাজার সাইনবোর্ড বাদে কলমেশ্বর এলাকায় একটি কনফেকশনারির দোকান রয়েছে নুরুন্নবীর। মেয়ে সামিয়া পড়ত কামারজুরী ইউসুফ আলী হাই স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
