১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ৬৬৫৩ পদ শূন্য, দ্রুত নিয়োগের সুপারিশ

সংসদীয় কমিটির কমিটির বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 15 Oct 2026, 08:33 PM

Updated : 15 Oct 2026, 08:33 PM

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ বন্ধ করে দ্রুত সরাসরি নিয়োগের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

জাতীয় সংসদ ভবনে বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের জনবল ঘাটতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদে ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ শূন্য থাকার তথ্য তুলে ধরা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ বন্ধ করে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করে কমিটি।

বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, “খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে সরকার সচেতন রয়েছে। খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে মাঠপর্যায়ে আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কার্যালয়ে ছোট পরীক্ষাগার বা মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল পরীক্ষা ও নজরদারির জন্য ভ্রাম্যমাণ পরীক্ষাগারসহ গাড়ি সরবরাহের কাজ চলছে।”

বৈঠকে বলা হয়, খোলাবাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রি বা ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নতুন নীতিমালা হলে ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনে ভুল এড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের সুপারিশ করেন কমিটির সভাপতি।

বৈঠকে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আবাদি জমি কমে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অনুমোদন ছাড়া কৃষিজমি অন্য কাজে ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকি চলছে।

কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, “খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।” এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, কমিটির সদস্য আবুল কালাম, আবু তালেব মন্ডল, আব্দুল করিম ও শামছুন্নাহার বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীনস্থ দপ্তর ও সংস্থাগুলোর প্রধান এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।