Published : 23 Feb 2026, 07:21 PM
অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে তিন শতাধিক প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’।
সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন।
এর আগে শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে 'প্রকাশক ঐক্য' বলেছিল, "মেলার মাঠে স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া এবং চরম সময়স্বল্পতার কারণে বইমেলায় অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।"
বিষয়টি নিয়ে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ায় সোমবার সংবাদ সম্মেলন ডাকে 'প্রকাশক ঐক্য'।
তবে সংবাদ সম্মেলনের আগে রোববার রাতে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এবং প্রকাশকদের একাংশকে নিয়ে জরুরি সভায় বসেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
সভার পর বাংলা একাডেমি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, "বাপুস নেতাদের সহায়তায় ইতোমধ্যে প্যাভিলিয়নপ্রাপ্ত প্রকাশকরা নিজ নিজ প্যাভিলিয়ন সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছেন।"
গত ১৯শে ফেব্রুয়ারি যেসব প্রকাশক স্টলের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের স্টল-বিন্যাসের লটারি রোববার রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় বলেও বাংলা একাডেমি জানায়।
বাংলা একাডেমির 'প্যাভিলিয়ন' না রাখার ঘোষণার পর প্রকাশক ঐক্যের সঙ্গে থাকা অনেক প্রকাশক রাতেই ফেইসবুকে পোস্ট করে মেলায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান। কেউ কেউ সোমবার সকাল থেকে স্টল নির্মাণের কাজও শুরু করেন।
এদিকে সোমবার পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলনও আয়োজন করে 'প্রকাশক ঐক্য'।
লিখিত বক্তব্যে ‘প্রকাশক ঐক্যের' পক্ষে মাহরুখ মহিউদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "আসন্ন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ আয়োজনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে ‘প্রকাশক ঐক্য’ বেশ কিছু যৌক্তিক দাবি কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরেছিল।
"শুরুতেই আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে একটি কথা জানাতে চাই— আমাদের এই অবস্থান কোনোভাবেই বইমেলা, পাঠক বা মেলা কর্তৃপক্ষের বিপক্ষে ছিল না। আমাদের এই ঐক্যের মূল ভিত্তি ছিল শতভাগ ন্যায্যতার প্রশ্ন। সৃজনশীল প্রকাশনা শিল্পের মর্যাদা রক্ষা, সর্বস্তরের প্রকাশকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা এবং মেলার মাঠে কাঠামোগত বৈষম্য দূর করার তাগিদেই আমরা একতাবদ্ধ হয়েছিলাম।"
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, "নানাবিধ সীমাবদ্ধতা, কাঠামোগত সংকট এবং মেলার প্রস্তুতিতে চরম সময়স্বল্পতার মতো বিশাল ব্যবসায়িক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাংলা একাডেমি ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা অব্যাহতভাবে আলোচনা চালিয়ে গেছি। আমাদের বিশ্বাস, মেলা কর্তৃপক্ষ, মন্ত্রণালয় এবং সকল অংশীজনের আন্তরিক ও সম্মিলিত সহযোগিতায় এবারের বইমেলা তার আপন মহিমায় সফল ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।"
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, "সরকারি বই ক্রয়ের বাজেট বহু বছর ধরে প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে। সেই বাজেট কীভাবে বাস্তবসম্মতভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সহযোগিতা আমরা প্রত্যাশা করি।"
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্য প্রকাশকের মধ্যে আহমদ পাবলিশিং হাউজের মেছবাহউদ্দীন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের সৈয়দ জাকির হোসাইন, বাতিঘর প্রকাশনীর দীপঙ্কর দাশ ও আদর্শ প্রকাশনীর মাহাবুব রাহমান উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রথমে বইমেলা এগিয়ে ডিসেম্বরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলা একাডেমি।
পরে ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই সিদ্ধান্ত ‘স্থগিত’ করার কথা জানায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।
পরে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ২ নভেম্বর বৈঠকে করে বাংলা একাডেমি নির্বাচনের পরপর ফেব্রুয়ারি মাসেই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
তখন জানানো হয়েছিল, নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হওয়ার পরই মেলার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা দেয়।
এরপর বাংলা একাডিমি বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বলে জানায়। কিন্তু প্রকাশকরা সেটি পিছিয়ে ঈদের পরে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।