ঢাবি শিক্ষক হাফিজুর রহমানের জামিন হাই কোর্টে
এ মামলার আসামি সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না সম্প্রতি জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন।
মাস তিনেক আগে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘মব’ হামলার শিকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেয়।
হাফিজুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী।
শেখ আলী আহমেদ খোকন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিম্ন আদালতে বিফল হয়ে গত সপ্তাহে হাই কোর্টে জামিন আবেদন করেন হাফিজুর রহমান। শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট রুল দিয়ে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন।”
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এ মামলায় ১৬ জন আসামি থাকলেও এ আইনজীবী একজনের জন্যই জামিন আবেদন করেন। এর আগে মহানগর হাকিম আদালতে কার্জনের জামিন আবেদন একাধিকবার নাকচ হয়।
এ মামলার আসামি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না সম্প্রতি জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন।
গত ২৮ অগাস্ট গভীর রাতে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। রাজধানীর শাহবাগ থানার এসআই আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
সেদিন সকালে লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমানসহ অন্য আসামিরা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিতে যান। ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ড. কামাল হোসেনের নাম থাকলেও তিনি সেখানে ছিলেন না।
সকাল ১১টায় গোলটেবিল আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে বক্তব্য দেন হাফিজুর রহমান। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই মিছিল নিয়ে একদল লোক সেখানে যান। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে এক পর্যায়ে আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে পুলিশ এলে বিক্ষোভকারীরা লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান, মঞ্জুরুল আলমসহ অন্তত ১৬ জনকে তাদের হাতে তুলে দেন।
