সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে কমিটি
কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব রয়েছেন।
সরকারি চাকরিজীবীদের আন্দোলনের মুখে আলোচিত ’সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ’ পর্যালোচনা করতে উচ্চ পর্যাযের কমিটি করেছে সরকার।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের এ কমিটি করা হয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
কমিটিকে চাকরি অধ্যাদেশ জারির ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শিগগির সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।
এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনজন সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- ভূমি সচিব, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব।
কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য নিতে পারবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
এর আগে নতুন সরকারি অধ্যাদেশ জারির প্রতিবাদে গত ২৪ মে থেকে সচিবালয়ে টানা আন্দোলন শুরু করেন কর্মচারীরা।
তাদের টানা আন্দোলনের মুখে ২৮ মে ভূমি সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব, পরিসংখ্যান সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন।
ওই ব্ঠৈকে সিদ্ধান্ত হয়, সকল সচিব মিলে বুধবার সকাল ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে বিষয়টি অবহিত করবেন। এরপর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেটি জানানো হবে।
সচিবদের সঙ্গে ওই বৈঠকে আশ্বাস পেয়ে বুধবারের জন্য আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন সরকারি কর্মচারীরা।
তবে পরদিন থেকে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন আন্দোলনরত কর্মচারীরা।
উপদেষ্টা পরিষদ গত ২২ মে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে জারি করার প্রস্তাবে সায় দেয়।
এর প্রতিবাদে ২৪ মে সকাল থেকে দিনভর সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের আপত্তির মধ্যেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৫ মে রাতে অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
নতুন অধ্যাদেশে পুরোনো আইনের সঙ্গে ’৩৭ক’ নামের আরেকটি ধারা সংযোজন করা হয়।
নতুন ধারায় একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দুই দফায় সাত দিন করে নোটিসের পর দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
