দোকান ঝাড়ু দেওয়া নিয়ে মারামারিতে একজনের মৃত্যু, গ্রেপ্তার ৩
এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে একটি দোকান ঘর ঝাড়ু দেওয়াকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে মারামারিতে ফকির আলমগীর নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
টার্মিনালের বাস মালিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার সকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আলমগীরের বাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার আলীগঞ্জে। ঢাকায় সায়েদাবাদের করাতিটোলা এলাকায় পরিবার নিয়ে থাকতেন তিনি। আলমগীর রাতে একটি সংবাদপত্রের গাড়িতে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। দিনের বেলায় ভ্যানে করে শরবত বিক্রির পাশাপাশি, তার স্ত্রীর খিচুড়ি ও রুটির দোকানেও সহযোগিতা করতেন। তিনি চার সন্তানের জনক ছিলেন।
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
থানার এসআই অতনু দে প্রেম বলেন, “তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাস্তায় পড়ে ওই ব্যক্তি মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”
মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের মর্গে রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই শুক্কুর অভিযোগ করে বলেন, দোকান ঝাড়ু দেওয়া নিয়ে সেখানকার ঝাড়ুদার শুক্কুর আলীর সঙ্গে তার ভাই-ভাবির দ্বন্দ্ব নিয়ে সমস্যার শুরু।
তিনি বলেন, “শুক্কুর আলী আশপাশের দোকানে ঝাড়ু দিয়ে টাকা নিতেন। তিনি আমার ভাবির দোকানেও ঝাড়ু দিতে চান এবং টাকা দাবি করেন। কিন্তু আমার ভাই ও ভাবি বলেন, তাদের দোকানে তারা নিজেরাই ঝাড়ু দেবেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।”
আলমগীরের ভাইয়ের ভাষ্য, এক পর্যায়ে শুক্কুর আলী তার ভাবির গায়ে হাত তোলেন। আলমগীর প্রতিবাদ করলে তার সঙ্গে হাতাহাতি শুরু হয়। ওই সময় শুক্কুর আলী তার ভাইয়ের বুকে এলোপাতাড়ি ঘুষি মারেন। এতে আলমগীর রাস্তায় পড়ে গিয়ে ইটের টুকরোয় মাথায় আঘাত পান।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আলমগীরকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন তার ভাই।
