Published : 13 Sep 2026, 07:10 PM
শরীয়হভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা অবস্থান নেন। জানতে পেরে সেখানে ছুটে আসেন ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন করা ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এর লোকজন।
রোববার ঢাকার মতিঝিলের দিলকুশা এলাকায় আলোচিত এ ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুতরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন।
পরে সেখানে মানববন্ধন করেন গ্রাহক ফোরামের লোকজন। দুই পক্ষ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেয়। এতে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
পরে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বিভাগে স্মারকলিপি দিয়ে বেলা ১টার দিকে চলে যায় দুই পক্ষ। তবে সোমবার ফের সেখানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
চাকরি ফেরত দেওয়ার দাবিতে অবস্থান নেওয়াদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা ১০টার দিকে দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনের সড়েকে অবস্থান নেন তারা।
মাহদী আলম সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। আমাদের তো ব্যাংকই নিয়োগ দিয়েছিল, বেতনও পেয়েছি। এখন সরকার পরিবর্তন হওয়ায় চাকরি গেল। সেই চাকরি ফেরত চাই।”
অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের দাবিতে গেল মে মাস থেকে আন্দোলন করে আসা গ্রাহক ফোরামের লোকজন এসে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থা নেন।
তারা ব্যানার, ফেস্টুন ও পতাকা হাতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তাদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করলে চাকরি ফেরত পাওয়ার দাবিতে আসা লোকজন চলে যায়।
পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক নুর নবী মানিক সমাবেশ শেষ করেন।
এর আগে সমাবেশে গ্রাহক ফোরামের সহ-সভাপতি শামীম হাসনাইন বলেন, “এস আলমের আমলে অনিয়ম ও ভুয়া সনদের মাধ্যমে বহু বিতর্কিত নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর ব্যাংকের পর্ষদ যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখার উদ্যোগ নিলেও সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষায় অংশ নেননি।”
এখন ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, “আমরা সচেতন গ্রাহকরা তাদের এই দাবি কখনোই পূরণ হতে দেব না।”
এ বিষয়ে দিলকুশা এলাকার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির উপকমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, “যেখানে মানুষের যাতায়াত ও জনদুর্ভোগ কম হয়, সেখানে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার জন্য আমরা উৎসাহ দিচ্ছি।”
তিনি বলেন, দুই পক্ষ থেকে তিন সদস্য করে প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দিয়েছে ব্যাংকের ব্যবস্থপনা বিভাগের কাছে। স্মারকলিপি দিয়ে চলে গিয়েছেন তারা।