১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘স্পটগুলোতে সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটকরা হতাশ’

“দেশের সবচেয়ে বড় ট্যুরিস্ট স্পট। অথচ সমুদ্রের পাশে পর্যাপ্ত টয়লেট নেই, গোসলের পর জামাকাপড় পরিবর্তনের জায়গা নেই, মোবাইল বা ব্যাগ রাখার নিরাপদ কোন জায়গা নেই,” বলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ প্রধান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jan 2025, 09:14 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:31 PM

দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটগুলোতে সুযোগ-সুবিধার অভাবে পর্যটকদের হতাশার কথা তুলে ধরলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান।

বেড়াতে যাওয়া লোকজন বিড়ম্বনায় পড়ছেন মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, “আশেপাশে বলার মত আর কাউকে না পেয়ে পোশাকধারী ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যদের কাছেই হতাশার কথা জানাচ্ছেন অনেক পর্যটক। কেউ কেউ একই জায়গায় দ্বিতীয়বার না আসার কথাও বলছেন।”

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতেও নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় ট্যুরিস্ট স্পট। অথচ সমুদ্রের পাশে পর্যাপ্ত টয়লেট নেই, গোসলের পর জামাকাপড় পরিবর্তনের জায়গা নেই, মোবাইল বা ব্যাগ রাখার নিরাপদ কোন জায়গা নেই।

“তারপরও বিপুল সংখ্যক পর্যটক নিয়মিতই কক্সবাজার যাচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে প্রায়ই পর্যটকরা ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে নিজেদের হতাশার কথা ব্যক্ত করেন।”

সোমবার এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের রিপোর্টারদের সংগঠন এটিজেএফবির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা বলেন ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান মাইনুল হাসান।

ট্যুরিস্ট পুলিশের গত এক বছরের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছর দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে গিয়ে দলছুট বা হারিয়ে যাওয়া ৩০৭ শিশুকে তারা উদ্ধার করেছেন। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ২৭ ব্যক্তিকে জীবিত ও ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এক বছরে ২ লাখ ৮৭ হাজার দেশি ও ১১ হাজার ৬৮৫ বিদেশি পর্যটককে সেবা দেওয়া হয়েছে।

মাইনুল হাসান বলেন, সরকারি হিসেবে বর্তমানে দেশে ট্যুরিস্ট স্পটের সংখ্যা ১ হাজার ৬০০ এর মত। তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ ৩২টি জেলার মোট ১৩০টি স্পটে কাজ করছে। পাশাপাশি কোনো বিদেশি পর্যটক বা পর্যটকদের গ্রুপ যদি বাংলাদেশে ঘোরাঘুরির জন্য এসে নিরাপত্তা চায়, সেক্ষেত্রে তাদেরকেও সাপোর্ট দেওয়া হয়।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) নাদিয়া ফারজানা বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ট্যুরিস্ট পুলিশের জন্য একটি বুথ চেয়েছেন তারা, যেখান থেকে বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র সম্পর্কে ধারণা পাবে। পাশাপাশি দেশে বেড়ানোর সময় তাদের পুলিশি নিরাপত্তার প্রয়োজন হলেও বুথ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সাখাওয়াত হোসাইন, মো. ইকবাল, বিধান ত্রিপুরা, মোহাম্মদ শাহ জালাল, এসপি এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার এবং এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শফিউল্লাহ সুমন সাক্ষাত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।