মগবাজারে ৩ মৃত্যু: সেই রফিকুল আবার রিমান্ডে
“ঘটনার দিন রাত ২টা পর্যন্ত বিভিন্ন নম্বরে কথা বলেছেন, যা তার উপস্থিতিতে যাচাইবাছাই করা প্রয়োজন, বলেন তদন্ত কর্মকর্তা।
রাজধানীর মগবাজারের আবাসিক হোটেল থেকে সৌদি প্রবাসী মনির হোসেন এবং তার স্ত্রী-সন্তানের লাশ উদ্ধারের মামলায় গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলামকে আবার দুই দিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ।
ওই সৌদি প্রবাসীর সম্পর্কে চাচা রফিকুল ইসলাম। তিনি কেরানীগঞ্জে মনিরের দুটি বাড়ির দেখভাল করতেন।
সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন বলে জানান রমনা মডেল থানার প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জিন্নাত আলী।
এর আগে তিনজন মারা যাওয়ার এ ঘটনায় গত ১ জুলাই রমনা মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে রফিকুলকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ।
নগরীর মগবাজারে একটি হোটেল কক্ষে ২৮ জুন তিনজনকে মৃত হিসেবে পায় পুলিশ। পরে এ মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক তাপস চন্দ্র পন্ডিত গত ১৪ অগাস্ট রফিকুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তিনি আদালতে এ মামলায় তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
আবেদনে বলা হয়, তদন্তকালে এ আসামির মোবাইর নম্বরের ‘সিডিআর’ পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি ঘটনার দিন রাত ২টা পর্যন্ত বিভিন্ন নম্বরে কথা বলেছেন, যা তার উপস্থিতিতে যাচাইবাছাই করা প্রয়োজন।
এছাড়া এ মামলায় তার জড়িত থাকার ’যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ’ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
পরে আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন সোমবার ধার্য করেন।
এদিন শুনানিকালে রফিকুলকে আদালতে হাজির করা হয়।
মগবাজারের আবাসিক হোটেল ‘সুইট স্লিপ’ থেকে আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হলে সৌদি প্রবাসী মনির হেসেন (৪৮), তার স্ত্রী নাসরিন আকতার স্বপ্না (৩৮) ও তাদের সন্তান আরাফাতকে (১৮) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে তাদের মৃত্যু খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সঙ্গে বলা হয়েছে, মরদেহগুলোতে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
মামলা বিবরণ অনুযায়ী, বাদী নুরুল আমিন ইতালিতে, আর তার ভাই মনির সৌদি আরবে থাকেন। কোরবানির ঈদে মনির গ্রামে আসেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায় মনির তাদের চাচাত চাচা রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে ঢাকাসহ গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় জমি-জমা ও বাড়ি কেনেন। চাচা রফিকুলই সেসব দেখভাল করছিলেন।
এজাহারে বলা হয়, মনির দেশে আসার পর জমিজমা ও টাকা পয়সার হিসাব নিয়ে রফিকুলের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এর মধ্যে ২৮ জুন মনির ছেলের চিকিৎসার জন্য স্ত্রীসহ ঢাকায় আসেন। তারাসহ ঢাকায় অবস্থান করা চাচা রফিকুল ইসলাম নিউ ইস্কাটন রোডের এসপিআরসি হাসপাতালে যান।
ওইদিন চিকিৎসকের সিরিয়াল না পেয়ে মনির স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মগবাজারের ‘সুইট স্লিপ’ হোটেলে ওঠেন। বিকালে পাশের ‘ভর্তা ভাত’ হোটেলে গিয়ে খাবার খান মনির ও রফিকুল ইসলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মনিরের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য খাবার নিয়ে হোটেল কক্ষে যান রফিকুল। এরপর রফিকুল তার বাসায় চলে যান।
মামলায় বলা হয়েছে, চাচা রফিকুলের আনা খাবার মনির ও তার পরিবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে তারা বমি করতে থাকেন, তাদের আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
