Published : 08 Sep 2026, 08:10 PM
বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আদেশে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও লামার ইউএনওকে নিয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠনের কথাও বলেছে আদালত।
প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী, এ কাজে বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারকে কার্যকর সহায়তা দিতে বলা হয়েছে।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার হাই কোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।
রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেনো বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
কেটে ফেলা পাহাড়গুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেনো নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে অপর এক আদেশে আগামী সাতদিনের মধ্যে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদণ্ড করে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
লামায় ইটভাটা মালিকদের পাহাড় কাটার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে গত ৩০ অগাস্ট রিট আবেদনটি করে এইচআরপিবি। সংগঠনটির পক্ষে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বাড়ৈ।
রিটে পরিবেশ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, বান্দরবান জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বান্দরবান আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডারসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।
আদেশের পর মনজিল মোরসেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই আদেশের একটা নতুনত্ব আছে। আগে সবসময় ডিসিদের অর্ডার দেওয়া হত। কিন্তু এটা একদম ইন্টেরিয়র এলাকা। অনেক ভেতরের পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় প্রশাসন সেখানে খুব একটা শক্তি দেখাতে পারে না। এ জন্য এবার আদেশ দেওয়া হয়েছে, আর্মির যে ক্যাম্প আছে তারা সিভিল প্রশাসন চাইলে তাদের কাজে সহায়তা করবে।”
পাহাড় কাটায় জড়িতদের জরিমানার পাশাপাশি কারাদণ্ড নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মনজিল মোরসেদ বলেন, “আদালত সেই নির্দেশই দিয়েছে, যারা পাহাড় কাটছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই প্রয়োগ করতে হবে।”