Published : 21 Mar 2026, 04:27 PM
কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার মিন্টো রোডে তার সরকারি বাসভবনে ইরান, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের একে একে আসতে থাকেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় করতে আসা কূটনীতিকরা হলেন—ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি, আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলওয়াহাব সাইদানি, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, স্পেনের রাষ্ট্রদূত হলেন গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হলেন ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত হারিস বিন হাজি ওসমান, অস্ট্রেলিয়ার হাই কমিশনার সুজান রাইল, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি, শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনার ধর্মপাল উইরাক্কোডি, নেপালের রাষ্ট্রদূত জ্ঞানশ্যাম ভান্ডারি, ব্রিটিশ হাই কমিশনার হলেন সারাহ কুক, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
এক টেবিলে ছিলেন ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা ও পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দার।
প্রণয় ভার্মা পরে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “সবাইকে ঈদ মোবারক। আমাদের দুই দেশের জনগণকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করব।”
বেলা ১টার দিকে কূটনীতিকদের সঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ হয়।
নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ
একই স্থানে বিকালে নিজ দলের নেতাকর্মীর পাশাপাশি রাজনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, আবদুল মান্নান ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ।
অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মেজর আখতারুজ্জামান, দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির রাশেদ প্রধান, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।
শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সকালবেলা যাদের সাথে মিলিত হয়েছি, তারা ছিলেন মূলত বিদেশি কূটনীতিকবৃন্দ। আমরা তাদের মাধ্যমে বিশ্বে একটা বার্তা দিতে চেয়েছি যে, আমরা একটা সৌহার্দ্যের, একটা ভ্রাতৃত্বের, একটা বন্ধুত্বপূর্ণ বিশ্ব চাই।
"যেই বিশ্বে হিংসা-হানাহানি থাকবে না, যুদ্ধ-বিগ্রহ হয়ে আর মানুষের জীবন নিয়ে কেউ খেলায় মেতে উঠবে না, আগুনের গোলা আর উড়বে না—আমরা সেইরকম একটা বিশ্ব আমরা দেখতে চাই।"
দেশের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আর এখন আমরা মিলিত হচ্ছি প্রিয় বাংলাদেশের জন্য যে আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশটাকে গড়ব। আল্লাহ তাআলার মেহেরবানি এই দেশে আল্লাহ আমাদেরকে পয়দা করেছেন।
“কীভাবে গড়ব? এই কুরআন এবং রমজানের শিক্ষা নিয়ে ইনশাআল্লাহ গড়ব। রমজানের শেষে মানুষকে একটামাত্র শিক্ষা দেয়, এটি হচ্ছে আল্লাহকে ভয় করা।”
শফিকুর রহমান বলেন, “ভয়ের সংস্কৃতি বাংলাদেশে আবার ফিরে আসুক এটা কেউ চায় না, আমরা চাই না। কেউ যদি সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চান, তিনি যেই হোন—আমরা ইনশাআল্লাহ সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবো। ইনশাআল্লাহ।
“আমরা এই ভয়ের সংস্কৃতি আর বাংলাদেশে আনতে দিব না।”
বিরোধী দলীয় নেতা মিন্টো রোডের সরকারি এ বাসায় এখনই না উঠলেও এখানেই শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।
এর আগে এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাসভবনের গেটের সামনে জামায়াত আমিরের ছবি সংবলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সেখানে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ করা পুরনো আমলের দোতলা এ ভবনটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অধ্যায়। একসময় ভবনটি ছিল লাল রঙের। তবে এখন সংস্কার কাজের মধ্যে সেই রং আর নেই।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই বাড়িতে উঠেছিলেন।
এরপর ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত এখানেই নিয়মিত অফিস করেছেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বাড়িটি তখন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরগরম থাকত। মানুষের যাতায়াতে প্রাণবন্ত থাকত চারপাশ।
২০০১ সালে তিনি বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার পর গত ২৫ বছর কোনো বিরোধী দলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি।