স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা বিল্লাল হত্যায় বিএনপি নেতা হাবিব গ্রেপ্তার
“হাবিব এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে নাম আসায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,” বলেন ডিবি প্রধান।
স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানা শাখার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতা সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার লালবাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা-ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
শুক্রবার রাতে ডিএমপির এই অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “হাবিব এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে নাম আসায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাবিব শাহবাগ থানা বিএনপির নেতা।
এর আগে এ ঘটনায় রমনা মডেল থানার যুবদলের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান পাটোয়ারী, যুগ্ম-আহ্বায়ক রেজাউল করিম, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড (রমনা) ছাত্রদলের ‘টিম প্রধান’ ইসতিয়াক আলী রাকিব ওরফে গোল্ডেন রাকিবসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি রমনা থানা যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তিনি আগাম জামিনে আছেন।
নিহত বিল্লাল রমনা থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালিবাগে সোহাগ পরিবহনের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, পরে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গেল ৮ জুন রাত ৮টার দিকে সালিশের কথা বলে মৌচাকের আনারকলি মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় ডেকে নিয়ে তাকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়।
পরদিন তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন রমনা মডেল থানায় ২১ জনের নাম দিয়ে ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৭/৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিল্লাল খাবার হোটেলের ব্যবসা করতেন। তার ভাগনে মোবারক হোসেন আকাশ মৌচাকের আনারকলি মার্কেটে ব্যবসা করেন। আসামি দিদারুল ইসলাম বাবু আনারকলি মার্কেটের ফুটপাত ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা পরিষ্কারের বিলের নাম করে চাঁদা তুলতেন। এ নিয়ে দিদারুলের সঙ্গে বিল্লালের ভাগনে আকাশের বিরোধ চলছিল।
ঘটনার রাতে আকাশের বিষয়ে দিদারুল কথা বলবে বলে বিল্লালকে আনারকলি মার্কেটের পেছনে ডেকে নেয়। দিদারুলসহ অন্য আসামিরা রাত ৮টার দিকে বিল্লালের ওপর হামলা চালায় ও মারধর করে।
একপর্যায়ে দিদারুলের নির্দেশে রিয়াজুল ছুরি দিয়ে বিল্লালের বুকে আঘাত করেন। আকাশকেও মারধর করে আহত করা হয়। আকাশের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান।
এরপর বিল্লালকে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে মারা যান বিল্লাল।
আগের খবর:
