১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ফটোজার্নালিস্ট’ হতে চেয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের

“অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমের এই যুগে একটি ছবিই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Apr 2026, 05:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:31 PM

ক্যামেরার লেন্সে জীবনকে দেখার বাসনায় কর্মজীবনের শুরুতে ‘ফটোজার্নালিস্ট’ হতে চেয়েছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “আমার কর্মজীবনের একদম শুরুর দিকে প্রবল ইচ্ছা ছিল একজন ফটোজার্নালিস্ট হওয়ার। ক্যামেরার লেন্সে জীবনকে দেখার সেই স্বপ্ন আজও আমাকে তাড়িত করে।”

ছবি কেবলই আলো-ছায়ার খেলা নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটি একটি সময়ের দলিল, যা ইতিহাসকে অমর করে রাখে।

“একটি সংবাদের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে সেই ঘটনার নির্ভুল ভিজ্যুয়াল রেকর্ডের ওপর।”

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচনে ফটোজার্নালিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। তাদের ধারণ করা ছবির মাধ্যমেই দেশ-বিদেশের মানুষ বাস্তব চিত্র সম্পর্কে জানতে পারে।

“বিশ্ব এখন অনেক ছোট হয়ে এসেছে এবং অনলাইনভিত্তিক গণমাধ্যমের এই যুগে একটি ছবিই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ফলে ফটোজার্নালিজমের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।”

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ইয়াসের খান চৌধুরী দীর্ঘদিন বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রয়োদশ সংসদে ময়মনসিংহ-৯ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য হয়েই তিনি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার বাবা আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরী একই আসনে ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘বিউটি অব নেপাল’ শীর্ষক এ প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করে নেপালের ন্যাশনাল ফোরাম অব ফটোজার্নালিস্টস (এনএফপিজে) এবং বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ)। বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে নেপালের পাহাড়, উপত্যকা, উৎসব ও জনজীবন নানা চিত্র স্থান পায়।

নেপাল ভ্রমণের স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান বলেন, “নব্বই দশকের দিকে যখন নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলাম, সেই অভিজ্ঞতা ছিল এক কথায় অনন্য। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে থাকা দেশটির মানুষের সারল্য আর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য আমাকে মুগ্ধ করেছিল।”

আয়োজকরা বলছেন, দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে ঢাকায় আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের বলেন, “দুই দেশের মৈত্রীর বন্ধন শক্তিশালী করতে এই ধরনের আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে।”

উদ্বোধনী আয়োজন শেষে তিনিসহ অতিথিরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহসিন হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূইয়া, নেপালের ন্যাশনাল ফোরাম অব ফটোজার্নালিস্টসের সভাপতি প্রদীপ রাজ অনন্তা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য রওনাক হোসেন অনু।