জাপান-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হোক যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: তারেক রহমান
জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান।
বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বকে ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে’ পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কানতেই’-এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, “উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আমরা জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
“একসঙ্গে কাজ করে আমরা আমাদের দুই দেশের জন্য আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করা।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপর যেসব দেশ স্বীকৃতি দিয়েছে, জাপান তার একটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী।
“দশকের পর দশক ধরে গড়ে ওঠা বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে।”
তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানের বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”
এদিন সকাল পৌনে ১২টায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হয়। এ বৈঠকের পরপরই দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই জাপানি ভাষায় ‘কোন্নিচিওয়া’ বা ‘শুভ অপরাহ্ন’ বলে সম্ভাষণ জানান।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তিনি বলেন, “আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ও আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে আমরা জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেল ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়িয়ে আমাদের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেছি।
“এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমরা কিছু বাস্তব পদক্ষেপ নিয়েছি এবং গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেছি। আমাদের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।”
সংবাদ সম্মেলনের শেষে জাপানি ভাষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আরিগাতো গোজাইমাসু’, অর্থাৎ ‘আপনাকে ধন্যবাদ’।
