১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধাপরাধ মামলা: তোফাজ্জল হোসেনকে অব্যাহতি আবেদনের ওপর আদেশ ৩১ অগাস্ট

“প্রাথমিকভাবে অভিযোগ না থাকলেও কীভাবে এ মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছিল? একজনেরও চাকরি থাকার কথা নয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 02:11 AM

Updated : 16 Sep 2026, 12:58 PM

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে করা আবেদনের ওপর আগামী ৩১ অগাস্ট আদেশ দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করে। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

৩১ অগাস্ট তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের রিভিউ আবেদনের বিষয়ে আদেশ হবে।

এ দিন আসামিপক্ষে রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী। তিনি মামলার বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে তোফাজ্জল হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।

শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, “মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আমরা দেখেছি যে, এ মামলায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এরপরও তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন থেকে আমলে নিয়েছিল। এরপর অভিযোগ আমলে নিয়ে ফরমাল চার্জ গঠন করা হয়েছিল। সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন আগের ট্রাইব্যুনাল। এখন অভিযোগ দেখে, আমি কোন পক্ষে যাব, তা নিয়ে সন্দিহান। কারণ এটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ একটি মামলা; যা আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগে গঠন করা হয়েছিল।

“আমরা কনফিউজড (দ্বিধান্বিত)। তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পুনর্বিবেচনা করা হবে নাকি সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা হবে। তারা (ওই সময়ের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা) নিজেরাও বলেছেন, তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই। তখনই ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। এটা এখন তাদের (বর্তমান ট্রাইব্যুনাল) মাথার ওপর এসে পড়েছে।”

এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, “তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকলে এগোবো কী করে। অধিকতর তদন্তে সাক্ষ‍্য প্রমান ও প্রাথমিকভাবে অভিযোগ না থাকলেও কীভাবে এ মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছিল? একজনেরও চাকরি থাকার কথা নয়।”

এ প্রসঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদওয়ান হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলাটি একাধিকবার তদন্ত হলেও তৎকালীন প্রসিকিউশন তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগের অধিকতর তদন্তে অভিযুক্তদের অপরাধের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সে সময়ের প্রসিকিউটররা বিষয়টি গোপন রেখে প্রথমবার দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতেই চার্জ গঠনের আবেদন করেছিলেন। এমনকি ট্রাইব্যুনালে প্রথমবার দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ যা তৎকালীন ট্রাইব্যুনালই ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে আদেশ দিয়েছিল ২০২২ সালে তার ওপরই চার্জ গঠনের আবেদন জানান তারা। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে।

“৫ অগাস্টের পরিবর্তনের পর তোফাজ্জল হোসেন বর্তমান ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল তাকে জামিন দেয়। পরে চার্জ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করি আমরা।”

এর আগে ২০১৭ সালে তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে একটি বিবিধ বা মিসকেস মামলা হয়। সে সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন বলেও দাবি করেন এই আইনজীবী। 

পরে ২০২৪ সালের ১৬ মে তার অনুপস্থিতিতে মামলায় ত্রুটিপূর্ণ ফরমাল চার্জের উপর তৎকালীন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। ওই সময় প্রসিকিউটর ছিলেন সুলতান মাহমুদ সিমন এবং রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ ছিল, ১৯৭১ সালের ২৯ এপ্রিল ফেনী সদরের ফকিরহাট বাজারে আবুল হোসেনের দোকানে ৭-৮ জন সশস্ত্র রাজাকার হামলা চালায়। তাদের মধ্যে তোফাজ্জাল হোসেন ছিলেন। তোফাজ্জাল হোসেন তার হাতে থাকা রাইফেল দিয়ে উত্তর ধলিয়ার একজনকে গুলি করে হত্যা এবং আরেকজনকে আহত করেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীর  দাবি, পুনঃতদন্তে ওই অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান।

সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর ওই প্রতিবেদনটি ট্রাইব্যুনালের কাছে গোপন রেখেছিলেন, যার কারণে এই ত্রুটিপূর্ণ চার্জ গঠন হয়। 

আসামিপক্ষ আরও জানায়, ২০২৪ এর ৫ আগস্টের ৫-৬ মাস পর তারা ২০২৩-এ করা অধিকতর তদন্তের রিপোর্ট সম্পর্কে অবগত হন।