Published : 08 Mar 2026, 11:53 PM
ঢাকার আসাদগেট এলাকার একটি পাম্পে গিয়ে ‘চাহিদামতো তেল দিতে’ আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠেছে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।
রোববার বিকেল ৩টার দিকের এই ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে তখনই এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হয়ে ‘মীমাংসা করে’ ওই সাংবাদিককে ছেড়ে দিয়েছেন।
সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া সৈয়দ মাহমুদুল ইল্লাহ নামের ওই ব্যক্তি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘নিউজ টুয়েন্টিফোরে’ কর্মরত বলে পুলিশ বলেছে।
আসাদ গেইট এলাকার ‘সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের’ ওই ঘটনায় ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত গাড়িতে একদফা তেল নেওয়ার পর এক কর্মচারির সঙ্গে তর্ক করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ওই কর্মচারির দিকে তেড়ে যান ও কোমর থেকে পিস্তল বের করেন।
এ সময় সেখানে উপস্থিত লোকজন জড়ো হয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশও যায়।
পুলিশ বলছে, সৈয়দ মাহমুদুল ইল্লাহ নামের ওই ব্যক্তি তার প্রাইভেট কারের জন্য জ্বালানি তেল নিতে যান। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাকে ১ হাজার ৫০০ টাকার জ্বালানি তেল দিতে চাইলে, তিনি গাড়ির ট্যাংক ভরে দিতে বলেন।
কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ট্যাংক ভরে দিতে অস্বীকার করলে তিনি অতিরিক্ত জ্বালানি তেলের জন্য আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওই সাংবাদিকের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পরীক্ষা করে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন।
জানতে চাইলে সৈয়দ মাহমুদুল ইল্লাহ বলেন, রোববার সকালে তার স্ত্রীর চোখে অস্ত্রোপচার হয়। এজন্য ভোরেই তারা গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে যান। দুপুর ২টার দিকে অস্ত্রোপচার শেষ করে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি তেল নিতে পাম্পে আসেন। দীর্ঘ অপেক্ষায় যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছিলেন সদ্য চোখে অস্ত্রোপচার করে আসা তার স্ত্রী।
“এসময় আমি তাদের কাছে গিয়ে নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বললাম, ভাই আমার স্ত্রী অসুস্থ যদি একটু মানবিকভাবে বিষয়টা দেখতেন। কিন্তু তারা খুব শোনেনি, বলেছে ‘লাইনে আসতে পারলে আসেন, নাহলে আর কোন সুযোগ নেই।’
“এরপর পরিচিত এক সার্জেন্টের সহায়তায় গাড়িটা কিছুটা পিছিয়ে এনে তেলের জন্য লাগানো হলে পাম্পের কর্মী দেড় হাজার টাকার তেল দেয়। তার কাছে দুই হাজার টাকার তেল দেওয়ার অনুরোধ করলে সে বলে, ‘দ্যাখো ড্রাইভার তুমি কিন্তু বাড়াবাড়ি করতেছো।’ আমি তাকে ভদ্রভাবে কথা বলার অনুরোধ করি। সে বলে বাড়তি তেল দিতে হলে বাড়তি টাকা লাগবে। আমি প্রতিবাদ করি, কেন বাড়তি টাকা লাগবে। এ নিয়ে তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে যায়।”
পাম্পের ওই কর্মী তার প্রতিষ্ঠান নিয়েও (নিউজ টোয়েন্টিফোর) ‘বাজে কথা বলেছে’ দাবি করে এই সাংবাদিক বলেন, “এরপর সে বলে ‘জানিস তো তেলের জন্য পাম্পে মানুষ পিটায় মাইরা ফেলতেছে’। তখন বলছি এই যে আমার কোমরে রিভলবার আছে, এক্কেবারে ঘাড়ের মধ্যে দিমু। এরপর তারা আমাকে ঘিরে ধরেছে। তখন পাম্পে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট, উনি পরে আমাকে ডেকে নিলেন।”
এই সাংবাদিক বলেন, ৩৬ বছর আগে লাইসেন্স পেয়ে তিনি এই অস্ত্রটি নিয়েছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ তার কাগজপত্র নিয়ে যাচাই করেছে।
জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় বলেছেন, জ্বালানি তেল নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে চলমান নিয়মিত তদারকির মধ্যে তিনি যখন ওই পাম্পে উপস্থিত হন তখই ঘটনাটি ঘটে।
তিনি বলেন, কাগজপত্র যাচাই করে দেখেছেন অস্ত্রটি বৈধ। তবে অস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তার ‘ক্ষমতার বাইরে থাকায়’ তিনি ব্যবস্থা নেননি।
মিল্টন রায় বলেন, “আমি যখন গিয়েছি, তখন মোহাম্মদপুর থানা পুলিশও চলে আসে। আমার উপরে ন্যস্ত ক্ষমতার মধ্যে অস্ত্র প্রদর্শণের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ছিল না।”