১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিমানের পুশব্যাক টাগের গুঁতোয় গ্রাউন্ডেড এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস

বিমানের এমডি মো. সাফিকুর রহমান বলছেন, অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে তারা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

বিমানের পুশব্যাক টাগের গুঁতোয় গ্রাউন্ডেড এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওেয়তে এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজ। ছবি: রায়হান আহেমদ/ প্লেনস্পটার্স ডট নেট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Nov 2025, 02:37 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:08 PM

ঢাকার শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী তুলে পিছিয়ে নেওয়ার সময় পুশব্যাক টাগের বেসামাল গুঁতোয় এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজের নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

দিল্লি যাত্রা বাতিল করে উড়োজাহাজটি এখন ঢাকায় মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এই ক্ষতির জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং অপারেটর বিমানকে দায়ী করেছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ। 

বিমানের এমডি মো. সাফিকুর রহমান বলছেন, অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে তারা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

শনিবার রাতে এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস এ ৩২০ মডেলের উড়োজাহাজটি এ বিড়ম্বনার শিকার হয়। 

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী কোম্পানি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স উড়োজাহাজ পরিচালনা করা ছাড়াও দেশের বিমানবন্দরগুলোতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে আসছে। যে কোনো বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে যাত্রী ও মালামাল নামানো-ওঠানোর দায়িত্ব গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটরের। 

ঢাকার শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার উচ্চমূল্য এবং নিম্ন মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছে এয়ারলাইন্সগুলো।

একটি উড়োজাহাজ নামার পর সেটিকে পার্কিং বা বে এরিয়ায় নিয়ে আসা এবং এসব জায়গা থেকে পুশব্যাক টাগ বা বিশেষ ট্রাক্টরের মতে গাড়ির সাহায্যে ঠেলে ট্যাক্সিওয়েতে যেতে সহায়তা করে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানির কর্মীরা। 

এয়ার ইন্ডিয়ার ওই উড়োজাহাজটিকে নির্ধারিত সময়ে রানওয়েতে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুশব্যাক টাগ দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

এয়ার ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিদের অভিযোগ, পুশব্যাক টাগটি ঠিক মত যুক্ত না করেই গুঁতো দেওয়ার ফলে উড়োজাহাজটির নোজ গিয়ার ফর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেটি মেরামত না করা পর্যন্ত উড়োজাহাজটি গ্রাউন্ডেড রাখতে হবে।

এয়ার ইন্ডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধি (জিএসএ) কোম্পানির একজন কর্মকর্তা ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় ফ্লাইটটির ঢাকা ছাড়ার কথা ছিল। ১২৬ জন যাত্রী তুলে যখন উড়োজাহাজটি রানওয়েতে যাওয়ার জন্য পুশব্যাক করানো হচ্ছিল, তখনই পুশব্যাক টাগ অপারেটরের ভুলে নোজ গিয়ারের যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। 

পরে ১২৬ জন যাত্রীর কয়েকজনকে অন্য ফ্লাইটে দিল্লি পাঠানো হয়, কয়েকজনকে এয়ারলাইন্সের খরচে হোটেলে রাখা হয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও মো. সাফিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ইতোমধ্যে ওই পুশকার্ট অপারেটরকে বিমানবন্দর থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। 

সোমবার তাকে বরখাস্ত করা হতে পারে বলেও জানান বিমানের এমডি।